বৃহস্পতিবার । মে ১৪, ২০২৬
প্রবাস ডেস্ক প্রবাস ১৩ মে ২০২৬, ১০:৩২ অপরাহ্ন
শেয়ার

ইতালি যাওয়ার স্বপ্নে লিবিয়ায় প্রাণ গেল মাদারীপুরের যুবকের


tasir

তছির ফকির/ছবি: সংগৃহীত

উন্নত জীবনের আশায় ইতালিতে পাড়ি জমানোর স্বপ্ন দেখেছিলেন মাদারীপুরের যুবক তছির ফকির (৩৫)। কিন্তু সেই স্বপ্নই তার জীবনে কাল হয়ে দাঁড়ালো। লিবিয়ার মাফিয়াদের বন্দিশালায় দীর্ঘ কয়েক মাসের নির্মম নির্যাতনের পর অবশেষে তার মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (১৩ মে) তছিরের মৃত্যুর খবর তার গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে শুরু হয় শোকের মাতম।

নিহত তছির মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার ঘোষালকান্দি গ্রামের কালু ফকিরের ছেলে। তিন মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে তার সুখের সংসার ছিল। টেকেরহাট বন্দরের একটি চায়ের দোকান চালিয়ে যা আয় হতো, তা দিয়ে কোনোমতে দিন চলত। কিন্তু সচ্ছলতার আশায় দালালের খপ্পরে পড়ে সর্বস্ব হারালেন তিনি।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবেশী দালাল রফিকুল ইসলাম বাঘার প্রলোভনে পড়ে জমি বিক্রি ও চড়া সুদে ঋণ নিয়ে ২৫ লাখ টাকা দালালের হাতে তুলে দেন তছির। ৮ মাস আগে ইতালির উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে তিনি লিবিয়া পৌঁছান। সেখানে তাকে বন্দিশালায় আটকে রেখে মাফিয়ারা ভিডিও কলের মাধ্যমে অমানুষিক নির্যাতন চালায়। সেই নির্যাতনের ভিডিও দেখিয়ে পরিবার থেকে আরও ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় দালালচক্র।

এমনকি তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় আরও ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা নেয় তারা। সব মিলিয়ে দালালরা প্রায় ৪৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার।

নিহত তছিরের স্ত্রী ইসমোতারা বেগম কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “ইতালি নেওয়ার কথা বলে ওরা আমার স্বামীকে লিবিয়া নিয়ে মেরে ফেলল। দেনার দায়ে এখন আমরা পথভিখারি। আমি এই খুনি দালাল রফিকের কঠোর বিচার চাই।”

তছিরের বৃদ্ধ বাবা কালু ফকির শুধু তার ছেলের মুখটি শেষবারের মতো দেখার জন্য আকুতি জানিয়েছেন এবং লাশটি দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে তছিরের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই অভিযুক্ত দালাল রফিকুল ইসলাম বাঘা ও তার পরিবার বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে। রাজৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহফুজুল হক জানিয়েছেন, বিষয়টি সম্পর্কে তারা অবগত হয়েছেন। ভুক্তভোগী পরিবার থেকে লিখিত আবেদন পেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে লাশটি দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং দালালদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।