
শি জিনপিং ও ডোনাল্ড ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীন সফর হতে পারে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে নতুন করে ঢেলে সাজানোর এক ঐতিহাসিক সুযোগ। যদিও এ লক্ষ্য অর্জন করতে এই দুই নেতাকে প্রযুক্তি, বাণিজ্য, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ এবং তাইওয়ান ইস্যুসহ নানা জটিল বিরোধ সামাল দিতে হবে। পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধও ট্রাম্পের দুই দিনের বৈঠকের ওপর গভীর ছায়া ফেলেছে।
২০১৭ সালেও একবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চীন সফরে এসেছিলেন, তবে এবারের সফরটির পটভূমি একেবারেই ভিন্ন। কেন না, বর্তমান পথিবীর ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় চীন এখন আমেরিকার শত্রু ইরানের অন্যতম প্রধান মিত্র। তাছাড়া, ট্রাম্পের প্রথম দফার বাণিজ্য ও প্রযুক্তি যুদ্ধের ধাক্কা সামলে নিয়ে চীন তার রপ্তানি আরও বাড়িয়েছে। পাশাপশি নিজেকে একটি উচ্চপ্রযুক্তিনির্ভর শক্তিতেও রূপান্তর করেছে।
চীনের রাষ্ট্র ক্ষমতার ওপর শি’র রয়েছে পূর্ণ নিয়ন্ত্রন। এমনকি, তিনি তার মেয়াদসীমার বাইরে গিয়েও শাসন চালিয়ে যাচ্ছেন। অন্যদিকে, ট্রাম্পও এমন এক মার্কিন নেতা, যিনি নিজের শেষ সাংবিধানিক মেয়াদে থেকেও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছেন।
এই বৈঠকের অংশ হিসেবে ট্রাম্পের জন্য বেইজিং এর পক্ষ থেকে থাকছে জাঁকজমকপূর্ণ রাষ্ট্রীয় ভোজসভা। এছাড়া টেম্পল অব হেভেন পরিদর্শন করার কথাও রয়েছে।
এখন দেখার বিষয়, এই দুই নেতা কীভাবে এসব জটিল পরিস্থিতি সামাল দেন। কেননা, এটা শুধু এখন আর বিশ্বের দুই পরাশক্তির সম্পর্করে মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ।
ওয়াশিংটনের দৃষ্টিতে ট্রাম্প কী চান
ট্রাম্পকে মূলত এই সফরটি এক রকম বাধ্য হয়েই করতে হচ্ছে। কারণ, গত বছরের অক্টোবর মাসে দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত বৈঠকটি ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে সাহায্য করেছিল। সেখানে তাদের মধ্যে একটি বড় বাণিজ্য চুক্তি এবং শুল্ক ছাড় নিয়ে অগ্রগতির বিষয়ে সমঝোতা হয়েছিল। পাশাপাশি এবছরের মার্চে দুই দেশের অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার ও জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক আরেকটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিলো।
কিন্তু ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের কারণে ট্রাম্প চীন সফর পিছিয়ে দিয়েছিলেন, কারণ তিনি বলেছিলেন যুদ্ধটি কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই শেষ হবে। অথচ এখন সেই যুদ্ধ তৃতীয় মাসে গড়িয়েছে। ইরানের সাথে করা শান্তিচুক্তিও আর কোনো কাজে আসছে না।
সোমবার ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে এক মাসের যুদ্ধবিরতি ‘ম্যাসিভ লাইফ সাপোর্টে’ রয়েছে। এছাড়া ইরান নিয়ে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করবেন বলেও তিনি সাবাদিকদেরকে জানিয়েছেন।
তবে ট্রাম্প ও শির বৈঠকের কয়েক দিন আগেই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বেইজিং সফর করেছেন, যা চীন-ইরান সম্পর্ককের ঘনিষ্ঠতা আরও স্পষ্ট করেছে।
ধারণা করা হচ্ছে, ট্রাম্প শিকে ইরানের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে বলবেন যেন তারা হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেয় এবং একটি গ্রহণযোগ্য শান্তিচুক্তিতে সম্মত হয়।
তবে কিছু মার্কিন কর্মকর্তা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে ট্রাম্প এমন এক বৈঠকে যাচ্ছেন যেখানে অনেক ক্ষেত্রে শি জিনপিংয়ের হাতেই শক্তিশালী অবস্থান রয়েছে—এবং চীনা নেতা হয়তো এই সুযোগ ব্যবহার করে তাইওয়ান ইস্যুতে নিজের স্বার্থ আদায় করতে পারেন।




































