
ছবি: সংগৃহীত
অভাবের সংসারে সচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্নে শেষ সম্বল বসতভিটাটুকু বিক্রি করে ছেলেকে লেবাননে পাঠিয়েছিলেন ভ্যানচালক সুরঞ্জন দাস। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে তিন বছর পর সেই ছেলে ফিরলেন নিথর দেহ হয়ে। গত সোমবার (১১ মে) রাতে লেবাননের মাইফাদুন এলাকায় ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় নিহত হন সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার শ্রীপতিপুর গ্রামের শুভ দাস (২৬)। একই ঘটনায় আরও দুই বাংলাদেশির মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
পরিবারের আর্থিক সংকট সামাল দিতে তিন বছর আগে শুভকে লেবাননে পাঠানো হয়। স্থানীয় কয়লা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাসের পর শুভর উপার্জনেই চলত সংসার। তাকে বিদেশে পাঠাতে বাবা সুরঞ্জন দাস তার শেষ আশ্রয়স্থল এক শতক জমির বাড়িটি বিক্রি করে দেন এবং চড়া সুদে প্রায় চার লাখ টাকা ঋণ নেন। বাড়ি বিক্রির পর থেকে পরিবারটি ওই গ্রামেই একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করছে।
লেবাননে একটি বাড়ির দেখাশোনা ও বাগানের কাজ করতেন শুভ। প্রতি মাসে তার পাঠানো ৩৫ হাজার টাকা দিয়েই চলত ছোট ভাই-বোনের পড়াশোনা ও ঋণের কিস্তি। তবে গত দুই মাস প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে তিনি কোনো টাকা পাঠাতে পারেননি, যা নিয়ে মানসিকভাবে বেশ দুশ্চিন্তায় ছিলেন। মঙ্গলবার দুপুরে তার মৃত্যুর খবর বাড়িতে পৌঁছালে শ্রীপতিপুর গ্রামে শোকের মাতম শুরু হয়।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে শুভর মা শিখা রানী দাস বলেন, “সংসারের হাল ফেরাতে বিয়ে না করেই বিদেশে গিয়েছিল শুভ। কিছুদিন পর দেশে এনে ওকে বিয়ে দেওয়ার স্বপ্ন ছিল। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না।” বোন সাধনা দাসের আক্ষেপ, “দাদা ছিল আমাদের একমাত্র ভরসা। এখন আমাদের পড়াশোনা আর বাবার ঋণ শোধ হবে কীভাবে?”
কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুল ইসলাম জানিয়েছেন, শুভর মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রশাসন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে এবং পরিবারটিকে সরকারি সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।







































