
সংগৃহীত ছবি
ওমানে এখন চলছে তীব্র গ্রীষ্মের খরতাপ। সূর্য যেন আক্ষরিক অর্থেই মরুর বুকে আগুন ঝরাচ্ছে। আর এই চরম প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেই জীবন-জীবিকার তাগিদে প্রতিদিন মাথার ঘাম পায়ে ফেলছেন হাজার হাজারো প্রবাসী বাংলাদেশি। পরিবারের ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে যারা দেশ ছেড়েছিলেন, এই তীব্র গরমের মধ্যেও তাদের কঠোর পরিশ্রমে কোনো বিরতি নেই। কাঠফাটা রোদে পুড়ে বুকভরা আশা নিয়ে তারা বিরামহীনভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
বর্তমানে ওমানের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা ৪৫ থেকে ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি ওঠানামা করছে। এই প্রচণ্ড গরমে সাধারণ মানুষের যেখানে ঘরের বাইরে বের হওয়াই দায়, সেখানে প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিকেরা নির্মাণকাজ, রাস্তাঘাট সংস্কার, পরিচ্ছন্নতাকর্মী কিংবা বিভিন্ন দূরহ কৃষি খামারে কাজ করে চলেছেন।
সকাল থেকে শুরু করে দিনভর এই হাড়ভাঙা খাটুনির ফলে অনেকেই পানিশূন্যতা, হিটস্ট্রোকসহ নানা শারীরিক ও স্বাস্থ্যগত জটিলতার ঝুঁকিতে পড়ছেন। লোহা বা ইটের মতো নির্মাণসামগ্রী রোদে এতটাই উত্তপ্ত হয়ে থাকে যে, অনেক সময় খালি হাতে ধরাই কঠিন হয়ে পড়ে। তবুও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার তাগিদে বুক পেতে লড়ছেন প্রবাসীরা।
এদিকে শ্রমিকদের চরম স্বাস্থ্যঝুঁকি ও নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ওমান সরকারের পক্ষ থেকে দুপুরে খোলা জায়গায় কাজ করার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। চলতি জুন মাস থেকে শুরু করে আগামী আগস্ট পর্যন্ত প্রতিদিন দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে বেলা সাড়ে ৩টা পর্যন্ত এই মধ্যাহ্নকালীন বিরতি কার্যকর থাকবে। সরকারের এই আইনি পদক্ষেপ শ্রমিকদের কিছুটা স্বস্তি দিলেও, এই নির্ধারিত সময়ের আগে ও পরের রোদও প্রবাসীদের জন্য বেশ অসহনীয় হয়ে উঠছে।
কাজের মাঠে থাকা অনেক শ্রমিকই জানান, দুপুরের তিন ঘণ্টার বিরতির পর যখন তারা পুনরায় কাজে ফেরেন, তখনো রোদের তীব্র তেজ এবং বাতাসের উচ্চ আর্দ্রতা তাদের শরীর একদম নিংড়ে নেয়। তবে সব কষ্টকে একপাশে সরিয়ে রেখে মাস শেষে দেশে থাকা পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতেই এই মরুর বুকেও প্রতিদিন ঘাম ঝরিয়ে চলেছেন বাংলাদেশের এই রেমিট্যান্স যোদ্ধারা।













































