
ছবি: সংগৃহীত
জীবিকার তাগিদে অবৈধ পথে ভারতে গিয়ে দীর্ঘ ১৭ মাস বন্দি থাকার পর অবশেষে দেশে ফিরেছেন বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার ২৮ জন শ্রমিক। সম্প্রতি বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। গতকাল শনিবার (৬ জুন) স্থানীয় সংসদ সদস্য মোশারফ হোসেন তার ব্যক্তিগত ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে ছবিসহ এক স্ট্যাটাসে শ্রমিকদের নিরাপদে দেশে ফেরার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে ফেরত আসা এই শ্রমিকদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কথিত দালালদের প্রলোভনে পড়ে অবৈধ উপায়ে ভারতের তামিলনাড়ুতে কাজের সন্ধানে গিয়েছিলেন বগুড়ার বুড়ইল ইউনিয়নের কহুলী ও তার আশপাশের গ্রামের এই ২৮ শ্রমিক। সেখানে পৌঁছানোর পর তামিলনাড়ুর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তারা গ্রেফতার হন। এরপর আদালতের নির্দেশে দীর্ঘ ১৪ মাস কারাবন্দি থাকার পর, সেখানকার একটি আশ্রয়কেন্দ্রে আরও তিন মাস চরম মানবেতর জীবন যাপন করতে হয় তাদের।
শ্রমিকদের এই কষ্টের বিষয়টি জানার পর তাদের উদ্ধার করে দেশে ফেরাতে উদ্যোগ নেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মোশারফ হোসেন। তিনি গত ৪ এপ্রিল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সচিব বরাবর দুটি আধা সরকারি পত্র (ডিও লেটার) প্রদান করেন। চিঠিতে তিনি বাংলাদেশি দূতাবাসসহ সরকারি পর্যায়ে কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে দ্রুত তাদের দেশে ফেরত পাঠানোর পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানান। পরবর্তীতে বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও ভারতীয় দূতাবাসের সমন্বিত ও আন্তরিক প্রচেষ্টায় দীর্ঘ ১৭ মাস পর ওই শ্রমিকেরা মুক্তি পান।
এদিকে মুক্তি পেয়ে দেশে ফেরার পর গতকাল শনিবার বিকেলে উপজেলার বুড়ইল ইউনিয়নের ভদ্রদীঘি চারমাথা বাজারে ভারতফেরত ওই শ্রমিকদের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেন সংসদ সদস্য মোশারফ হোসেন। এ সময় তিনি উপস্থিত শ্রমিকদের দীর্ঘ বন্দিজীবনের সুখ-দুঃখের কথা শোনেন এবং তাদের আপ্যায়ন করেন। নিরাপদে স্বদেশে ও পরিবারের কাছে ফিরতে পেরে ওই শ্রমিকেরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও পররাষ্ট্র উপদেষ্টাসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
এই বিষয়ে সংসদ সদস্য মোশারফ হোসেন বলেন, মানুষের বিপদে-আপদে পাশে দাঁড়ানোই আমার রাজনীতির মূল লক্ষ্য। আমি বিশ্বাস করি, একজন জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, বরং মানুষের সুখ-দুঃখের প্রকৃত অংশীদার হওয়া। এই অসহায় শ্রমিকরা ভারতে আটকে পড়ে মানবেতর জীবনযাপন করলেও শুরুতে তাদের উদ্ধারে কেউ এগিয়ে আসেনি। বিষয়টি জানার পরপরই আমি সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছি এবং তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। আল্লাহর অশেষ রহমতে সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে পেরে আমি আনন্দিত।














































