
অনিরাপদ খাদ্যের বৈশ্বিক ঝুঁকি রুখতে ৭ জুন, বিশ্বজুড়ে পালন হয় ‘বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তা দিবস
অনিরাপদ খাদ্যের বৈশ্বিক ঝুঁকি রুখতে আজ রোববার, ৭ জুন, বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে ‘বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তা দিবস ২০২৬’। চলতি বছর দিবসটির মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—“বোঝা থেকে সমাধান: সর্বত্র নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা”। বিশ্বের অন্যান্য দেশের সাথে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশও আজ সরকারি ও বেসরকারি নানা সচেতনতামূলক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে এই বিশেষ দিনটি উদযাপন করছে।
অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগতে পারে, এই বিশেষ দিবসটির সূচনা কীভাবে হলো? মূলত, ২০১৮ সালের ২০ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে প্রতি বছর ৭ জুন তারিখটিকে বিশ্বব্যাপী ‘বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তা দিবস’ হিসেবে পালনের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপর ২০১৯ সালের ৭ জুন প্রথমবারের মতো বিশ্বজুড়ে এই দিবসটি উদযাপিত হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এবং জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO) যৌথভাবে বিশ্বজুড়ে এই দিবসটি পালনের মূল দায়িত্বে রয়েছে।
এই দিবসটির মূল তাৎপর্য হলো—খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বৈশ্বিক লড়াইয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা, অনিরাপদ খাদ্যের কারণে হওয়া রোগবালাই ও মৃত্যুর হার কমিয়ে আনা এবং মাঠ থেকে টেবিল পর্যন্ত প্রতিটা ধাপে খাদ্যের মান ঠিক রাখতে বিজ্ঞানসম্মত সমাধান নিশ্চিত করা।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, অনিরাপদ খাদ্য বর্তমান পৃথিবীর অন্যতম বড় এক স্বাস্থ্যঝুঁকি, যা মানুষের অমূল্য জীবন কেড়ে নেওয়ার পাশাপাশি অর্থনীতিকে দুর্বল করে দিচ্ছে। তবে আশার কথা হলো, সঠিক পদক্ষেপ নিলে এই সমস্যার একটি বড় অংশই প্রতিরোধ করা সম্ভব। এবারের বৈশ্বিক বার্তায় সংস্থাটি তথ্যের সঠিক বিশ্লেষণ এবং বিজ্ঞাননির্ভর সমাধানের ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিয়েছে। তাদের মতে, খাদ্য নিরাপত্তা কেবল সতর্কতার বিষয় নয়; এর জন্য প্রয়োজন দূরদর্শী নীতিমালা, কঠোর বাস্তবায়ন এবং বৈজ্ঞানিক সিদ্ধান্তের সঠিক প্রয়োগ।
এদিকে বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য প্রেক্ষাপটেও অনিরাপদ খাদ্য এখন একটি বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, অনিরাপদ খাবার গ্রহণের ফলে দেশে উচ্চ রক্তচাপ, বিপাকজনিত জটিলতা এবং দীর্ঘমেয়াদি নানা রোগের প্রকোপ আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে।
তবে দেশের সামগ্রিক খাদ্য সুরক্ষায় এখনো কিছু বড় চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। যার মধ্যে অন্যতম—খাদ্য পরিবহনে স্বাস্থ্যবিধির চরম ঘাটতি, সাধারণ মানুষের অসচেতনতা এবং প্রান্তিক উৎপাদকদের অবকাঠামোগত দুর্বলতা।
বিশেষজ্ঞদের স্পষ্ট বার্তা, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার কাজটি এককভাবে শুধু সরকারের নয়। বরং মাঠের উৎপাদক থেকে শুরু করে বাজারের বিক্রেতা এবং টেবিলের ভোক্তা—সবার সম্মিলিত ও যৌথ দায়িত্বেরই নাম নিরাপদ খাদ্য।
ভিজুয়াল স্টোরি

















































