শনিবার । জুন ৬, ২০২৬
ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক আন্তর্জাতিক ৬ জুন ২০২৬, ২:৫১ অপরাহ্ন
শেয়ার

দিল্লিতে প্রথম সমাবেশ করলো ককরোচ জনতা পার্টি


cockroach

ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-এর প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে শনিবার সকালে ভারতে ফিরে দিল্লির যন্তর মন্তরে একটি বড় বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু করেছেন। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিপুলসংখ্যক তরুণ-তরুণী অংশ নেন।

কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যেই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে অভিজিৎ দিপকে বলেন, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আন্দোলন শুরু করার পর এক মাস পেরিয়ে গেলেও সরকার কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

এসময় তিনি তিনি বলেন, ‘এটি দীর্ঘ লড়াই। আমাদের পোস্ট মুছে ফেলা যেতে পারে, কিন্তু আমাদের কণ্ঠস্বর থামানো যাবে না।’

বিক্ষোভে শত শত মানুষ অংশ নেন, যাদের বেশিরভাগই ছিলেন তরুণ ও শিক্ষার্থী। অনেককে ককরোচের মুখোশ পরে এবং ফুল হাতে দেখা যায়। কিছু স্কুলশিক্ষার্থীকেও তাদের অভিভাবকদের সঙ্গে কর্মসূচিতে যোগ দেন।

সমাবেশে অংশগ্রহণকারীদের বড় অংশই ছিলেন স্কুল-কলেজ শিক্ষার্থী এবং তরুণ পেশাজীবী, যা যুবসমাজের ব্যাপক সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত দেয়।

এদিকে সমাবেশ থেকে পাঁচ দফা দাফি তুলেছে বিক্ষোভকারীরা।

১. প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ছাড়া শিক্ষাক্ষেত্রে ডিজিটালাইজেশন নয়
বিক্ষোভকারীদের দাবি, শিক্ষা ব্যবস্থাকে পুরোপুরি ডিজিটাল করার আগে শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টদের যথাযথ প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। দিল্লিতে উচ্চশিক্ষায় অধ্যয়নরত তিন সন্তানের বাবা রাধেশ্যাম কৈথাল বলেন, ব্যাংকিং থেকে শিক্ষা—সবকিছু ডিজিটাল করা হচ্ছে, কিন্তু অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধ করা যাচ্ছে না। তাই পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছাড়া শিক্ষায় ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু করা উচিত নয়।

২. মণিপুরে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ফিরিয়ে আনা
মণিপুরের বাসিন্দা ও বর্তমানে নয়ডায় কর্মরত সমাজ উদ্যোক্তা উইনসন বলেন, গত তিন বছর ধরে রাজ্যটিতে অস্থিরতা চলছে। এর ফলে স্কুল-কলেজের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীরা মানসিক চাপের মধ্যে রয়েছে।

৩. প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করা
পরীক্ষা প্রশ্নফাঁস ও অনিয়মের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিক্ষোভকারীরা। দিল্লিতে বসবাসরত জয়পুরের গায়ত্রী সিং বলেন, তাঁর এক আত্মীয় তিন বছর ধরে নিট (NEET) পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়েও প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় হতাশ হয়ে পড়েছেন। তিনি পরীক্ষাব্যবস্থায় পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

৪. শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সমস্যাকে গুরুত্ব দেওয়া
দিল্লির ১৮ বছর বয়সী রোনক কুমার বলেন, তিনি অফিসে যাওয়ার পথে হঠাৎ বিক্ষোভস্থলে চলে আসেন। তাঁর মতে, অন্তত এই আন্দোলন এমন কিছু বিষয় নিয়ে কথা বলছে, যা শিক্ষার্থী ও অভিভাবক—উভয়ের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ।

৫. জবাবদিহি ও শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি গুরুত্ব
পেশায় মনোবিজ্ঞানী সুগন্ধা বলেন, অসংখ্য শিক্ষার্থী দীর্ঘদিন ধরে মানসিক চাপের মধ্যে রয়েছে। কিছু শিক্ষার্থী আত্মহত্যার পথও বেছে নিয়েছে। কিন্তু এসব ঘটনার জন্য কারও জবাবদিহি নেই। তিনি শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যকে জাতীয় অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান।