শনিবার । জুন ৬, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ৬ জুন ২০২৬, ৮:৫৯ পূর্বাহ্ন
শেয়ার

হরমুজ প্রণালীতে ইরানের রাডার স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলা


Rader-Iran

ছবি: রয়টার্স

মার্কিন বাহিনীর হামলায় হরমুজ প্রণালীতে ইরানের একটি ড্রোন ভূপাতিত হওয়ার পর উত্তেজনা আরও বেড়েছে। এর জেরে শনিবার (৬ জুন) ইরানের উপকূলীয় কয়েকটি রাডার ও নজরদারি স্থাপনায় পাল্টা বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এমন সময় এই ঘটনা ঘটল, যখন দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ও শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পরোক্ষ আলোচনা চলছিল।

রয়টার্সকে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, হরমুজ প্রণালী এলাকায় বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্য করে চারটি ইরানি ড্রোন সক্রিয় ছিল বলে মার্কিন সামরিক বাহিনী নিশ্চিত হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড ইরানের গোরুক ও কেশম দ্বীপে অবস্থিত নজরদারি চৌকি এবং রাডার স্থাপনায় হামলা চালায়।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালী দিয়ে যুদ্ধ শুরুর আগে বৈশ্বিক তেল পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশ সম্পন্ন হতো। বর্তমানে ইরানের নিয়ন্ত্রণ ও অবরোধের কারণে এ পথের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির অংশ হিসেবে তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, তেল রপ্তানিতে বাধা অপসারণ এবং আটকে থাকা বিপুল তেল রাজস্ব ফেরতের দাবি জানিয়েছে।

এদিকে যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে। ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, মার্কিন হামলায় ইরানের অধিকাংশ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র ধ্বংস হয়েছে। তবে দেশটির মোট ক্ষেপণাস্ত্র মজুদের এখনও ২১ থেকে ২২ শতাংশ অবশিষ্ট রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

চুক্তি নিয়ে অগ্রগতি ধীর হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, ইরান একটি গর্বিত ও শক্তিশালী জাতি। বর্তমান পরিস্থিতি তাদের জন্য অপ্রত্যাশিত হলেও বাস্তবতার কারণে তারা আলোচনায় আসতে বাধ্য হয়েছে। তাই সমঝোতায় পৌঁছাতে আরও কিছু সময় লাগতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।