
তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) প্রধান মমতা ব্যানার্জী
পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) প্রধান মমতা ব্যানার্জীর রাজনৈতিক সংকট যেন কাটছেই না। রাজ্য বিধানসভায় বিদ্রোহের পর এবার সংসদেও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে।
খবরে বলা হয়েছে, লোকসভা ও রাজ্যসভায় টিএমসির সংসদ সদস্যদের একাংশ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিদ্রোহী বিধায়কদের পথ অনুসরণ করতে পারেন। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় টিএমসির ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে প্রায় ৬০ জন দল থেকে বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত ব্যানার্জীকে বিরোধীদলীয় নেতা (এলওপি) হিসেবে সমর্থন দেন, যা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
টিএমসির প্রবীণ রাজ্যসভার সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায় সতর্ক করে বলেছেন, দলের সংসদীয় শাখাতেও একই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।
তিনি বলেন, ‘এত অল্প সময়ে প্রায় ৬০ জন বিধায়কের দলছাড়া হওয়ার ঘটনা আমি আগে কখনও দেখিনি। লোকসভাতেও একই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যেতে পারে।’
রাজ্যসভায়ও এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা আছে কি না—এ প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিলেও তিনি ইঙ্গিত দেন যে এমন সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
তবে দলের আরেক সাংসদ সৌগত রায় ভিন্ন মত প্রকাশ করেছেন। তার মতে, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় যা ঘটেছে তা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য সাময়িক ধাক্কা মাত্র, দল ভেঙে পড়ার অবস্থায় নেই।
তিনি বলেন, ‘বিজেপি পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার মতো টিএমসির লোকসভা ও রাজ্যসভার শাখাতেও একই ধরনের অভিযান চালানোর চেষ্টা করতে পারে। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর চেয়েও বড় বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেছেন এবং তিনি আবারও ঘুরে দাঁড়াবেন।’
১৯৯৮ সালে কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিষ্ঠা করেন। এরপর থেকে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে দলটি একটি শক্তিশালী অবস্থান ধরে রেখেছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিকে দলের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় প্রকাশ্য বিদ্রোহগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে। এমনকি মমতার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কাকলি ঘোষ দস্তিদারও প্রকাশ্যে দলের নেতৃত্ব নিয়ে অসন্তোষ জানিয়েছেন।
বিদ্রোহীদের কাছেও এখনও গ্রহণযোগ্য মমতা
যদিও বিদ্রোহী বিধায়করা ঋতব্রত ব্যানার্জীকে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে সমর্থন দিয়েছেন, তবুও তারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দলের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবেই দেখতে চান।
বৃহস্পতিবার এক বৈঠকে ঋতব্রত ব্যানার্জী পুনর্গঠিত বিধানসভা দলের ‘প্রধান উপদেষ্টা’ হিসেবে মমতার নাম প্রস্তাব দিলে বেশ কয়েকজন বিদ্রোহী বিধায়ক এতে অস্বস্তি প্রকাশ করেন।
তাদের মধ্যে একজন গুলশান মল্লিক বলেন, ‘আমাদের বলা হয়েছিল দল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বেই চলবে। তিনি শুধু উপদেষ্টা নন। আমরা চাই দল তার নেতৃত্বেই পরিচালিত হোক।’
তিনি আরও বলেন, ‘যদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়া হয়, তাহলে আমাদের ভাবতে হবে আমরা এই গোষ্ঠীতে থাকব কি না।’
আরেক বিদ্রোহী বিধায়ক সঙ্গীতা রায় বসুনিয়া বলেন, ‘মমতা আমাদের সর্বোচ্চ নেতা এবং তিনি তাই থাকবেন। তাকে শুধু উপদেষ্টা বলা যায় না। তিনি আমাদের নেতা।’
বিশ্লেষকদের মতে, দলের কার্যক্রমে মমতার ভাতিজা অভিষেক ব্যানার্জীর প্রভাব নিয়ে আপত্তি থাকলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি দলের অনেকের আনুগত্য এখনও অটুট রয়েছে।
বিদ্রোহীদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা মমতার
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠার আগেই বিদ্রোহী শিবিরের সঙ্গে যোগাযোগ পুনঃস্থাপনের চেষ্টা শুরু করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, তিনি ইতোমধ্যে কয়েকজন বিধায়ক ও সাংসদের সঙ্গে কথা বলেছেন।
একই সঙ্গে দিল্লিতেও বিদ্রোহের প্রভাব ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সূত্রগুলো জানিয়েছে, লোকসভা ও রাজ্যসভায় দলের সহকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগের দায়িত্ব দুইজন বিশ্বস্ত সাংসদকে দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে লোকসভায় টিএমসির ২৮ জন এবং রাজ্যসভায় ১৩ জন সাংসদ রয়েছেন।
এদিকে টিএমসি সাংসদ কল্যাণ ব্যানার্জী শুক্রবার জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় ঋতব্রত ব্যানার্জীকে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে নিয়োগের বিরুদ্ধে দল সোমবার আদালতের দ্বারস্থ হবে।
বাংলা টেলিগ্রাফ পর্যবেক্ষণ











































