
বাঁ থেকে বাসচালক ঝন্টু আলী, মো. আজমল হোসেন ও হেলপার শাকিব হোসেন। ছবি: সংগৃহীত
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে ঢাকাগামী একটি যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় চালক, সুপারভাইজার ও হেলপারের বিরুদ্ধে মামলা করেছে নৌ-পুলিশ। মামলার পর শনিবার (৬ জুন) অভিযুক্ত এই তিনজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। গোয়ালন্দঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সফিকুল ইসলাম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আলামপুর এলাকার বাসচালক মো. ঝন্টু আলী (৪৮), কুষ্টিয়ার সুগ্রীবপুর এলাকার সুপারভাইজার মো. আজমল হোসেন (৩৮) এবং আলামপুর এলাকার হেলপার শাকিব হোসেন (২২)।
এর আগে শুক্রবার (৫ জুন) রাতে দৌলতদিয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আবুজার গিফারী বাদী হয়ে গোয়ালন্দঘাট থানায় এই মামলাটি দায়ের করেন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকাল ৯টা ২৫ মিনিটের দিকে মেহেরপুরের গাংনী থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী ‘এসবি সুপার ডিলাক্স’ পরিবহনের বাসটি দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাটে পৌঁছায়। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ফেরিতে ওঠার আগে বাসের যাত্রীদের নামিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন নৌ-পুলিশ ও বিআইডব্লিউটিসির কর্মকর্তারা। চালক নির্দেশনা মেনে যাত্রীদের নামিয়ে দিলে তারা হেঁটে ফেরির দিকে রওনা হন।
এর কিছুক্ষণ পর চালক ঝন্টু আলী বাসটি স্টার্ট দিয়ে অত্যন্ত বেপরোয়া ও অবহেলামূলকভাবে চালাতে শুরু করেন। গাড়িটি নির্ধারিত ফেরি ‘বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর’-এ না তুলে দ্রুতগতিতে পন্টুন অতিক্রম করে পাশে থাকা ‘করবী অক্সফ্যাম’ ফেরিতে উঠিয়ে দেন। একপর্যায়ে বাসটি ফেরির শেষ প্রান্তের র্যাম্পে সজোরে ধাক্কা দিলে র্যাম্পের শিকল ও ছিটকিনি ছিঁড়ে সোজা পদ্মা নদীতে পড়ে যায়।
গোয়ালন্দঘাট থানার ওসি মো. সফিকুল ইসলাম জানান, বাসটি নদীতে পড়ে যাওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে বাসের সুপারভাইজার ও হেলপার লাফ দিয়ে ফেরিতে নেমে নিজেদের রক্ষা করেন। অন্যদিকে বাসসহ চালক নদীতে পড়ে গেলে তিনি সাঁতরে পন্টুনের কাছে আসেন। পরে নৌ-পুলিশ ও স্থানীয় জনতা তাকে উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য পাঠায়।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, চালকের এমন বেপরোয়া ও অসচেতন ড্রাইভিংয়ের কারণে সৃষ্ট দুর্ঘটনায় ‘করবী অক্সফ্যাম’ ফেরির র্যাম্প, ক্যাবল ও শিকল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি বাসের লকারে থাকা যাত্রীদের ব্যাগ ও মূল্যবান মালামালের একটি বড় অংশ পানিতে ভিজে ও ডুবে হারিয়ে গেছে। এতে সব মিলিয়ে আনুমানিক তিন লাখ টাকার আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। নৌ-পুলিশের করা এই মামলায় গ্রেপ্তারকৃত তিন আসামিকে শনিবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলেও নিশ্চিত করেছে পুলিশ।















































