
রাশিয়ার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইউক্রেন সেন্ট পিটার্সবার্গ ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এই হামলাকে তারা ‘অভূতপূর্ব আক্রমণ’ বলে অভিহিত করেছে।
রাশিয়ার স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, লেনিনগ্রাদ অঞ্চলে ১৪০টিরও বেশি ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। সেন্ট পিটার্সবার্গের গভর্নর আলেক্সান্ডার বেগলোভ প্রথমবারের মতো বাসিন্দাদের ঘরের ভেতরে থাকার নির্দেশ দেন, যা ২০২২ সালে যুদ্ধ শুরুর পর এই অঞ্চলে এক নজিরবিহীন সতর্কতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, তার দেশের বাহিনী রাশিয়ার অস্ত্রাগার ও একটি নৌঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। তিনি এটিকে রাশিয়ার হামলার ‘ন্যায়সঙ্গত জবাব’ বলে উল্লেখ করেন।
এই হামলা এমন সময় হলো, যখন এর মাত্র একদিন আগে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন অর্থনৈতিক ফোরামে ভাষণ দেন এবং জেলেনস্কির সঙ্গে সরাসরি আলোচনার প্রস্তাব নাকচ করেন।
জেলেনস্কি সামাজিক মাধ্যমে বলেন, যুদ্ধ শেষ করা এখন সময়ের দাবি, তবে তিনি অভিযোগ করেন যে পুতিন যুদ্ধ চালিয়ে যেতে আগ্রহী।
তিনি আরও জানান, ইউক্রেনীয় ড্রোনগুলো প্রায় ১,০০০ কিলোমিটার দূরে সেন্ট পিটার্সবার্গ অঞ্চলে পৌঁছে রাশিয়ার নৌবাহিনীর অস্ত্রাগারে হামলা চালিয়েছে।
এছাড়া দক্ষিণ রাশিয়ার ক্রাসনোদার অঞ্চলে একটি তেল ডিপোতেও হামলার দাবি করেন তিনি।
এর আগে জেলেনস্কি একটি খোলা চিঠিতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকের আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে পুতিন সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে জানান, যুদ্ধবিরতির আগে শান্তি আলোচনার অগ্রগতি হতে হবে।
রাশিয়ার দাবি অনুযায়ী, ইউক্রেনকে দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, খেরসন ও জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চল থেকে সরে যেতে হবে এবং ন্যাটোতে যোগদানের পরিকল্পনা ত্যাগ করতে হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইউক্রেন রাশিয়ার দখলকৃত অঞ্চলে রসদ সরবরাহ ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে ধারাবাহিক ড্রোন হামলা চালাচ্ছে, যা যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।










































