cosmetics-ad

লেবাননজুড়ে প্রবাসীদের হাহাকার

lebanon

‘নাম নিবন্ধনের জন্য লেবাননজুড়ে প্রবাসীদের হাহাকার। আরও সময় দেওয়া উচিত বৈরুত দূতাবাসের। এখনো অনেক মানুষ আছে যারা নাম নিবন্ধন করতে পারেনি। দয়া করে আবার সার্ভার চালু করুন। প্রায় ৪০ হাজার অসহায় লোক আছে। সবার নাম নিলে কী সমস্যা হতো স্যার’।

লেবানন প্রবাসী মাইনুদ্দিন চিশতি এমন এক আবেগঘন মন্তব্য করেছেন দূতাবাসের ফেসবুক পেজে। পারভিন লিমা লিখেছেন, ‘আপনারা সুযোগ দিয়েছেন ভালো কথা। কিন্তু আড়াই হাজার লোক নেওয়ার পরে অনলাইন আবার অফ করে দিলেন। এ কেমন কথা! এখনও হাজার হাজার মানুষ অবৈধ আছে, দেশে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছে। অবিলম্বে নতুন করে লোক নেওয়া শুরু করুন’।

লেবাননে বসবাসকারী বৈধ কাগজপত্রহীন বাংলাদেশি নাগরিকদের স্বেচ্ছায় দেশে ফেরা কর্মসূচির আওতায় আগামী রোববার (২ ফেব্রুয়ারি) থেকে শুরু হতে যাওয়া দ্বিতীয় ধাপে নাম নিবন্ধনের সুযোগ না পেয়ে হাজারও প্রবাসী বাংলাদেশি হতাশা ব্যক্ত করেছেন।

গত ২৮ জানুয়ারি রাত ১০টা ১৩ মিনিটে দূতাবাসের ফেসবুক পেজে স্বেচ্ছায় দেশে ফিরতে ইচ্ছুক অবৈধ প্রবাসীদের অনলাইনে আবেদন ফরম পূরণ করার নির্দেশনা দিয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রচার করে।

lebanonবিজ্ঞপ্তিটি প্রচারের সাথে সাথেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে বেশিরভাগ প্রবাসীদেরকে আনন্দ প্রকাশ করতে দেখা গেলেও পরের দিন (২৯ জানুয়ারি) বেলা ১১টার পরে তাদের সেই আনন্দ ম্লান হয়ে যায়। ২ হাজার ৫০০ জন প্রবাসীর আবেদন নিবন্ধন করার পরেই বৈরুত দূতাবাস কোনোপ্রকার পূর্ব নির্দেশনা ছাড়াই সুযোগটি বন্ধ করে দেয়।

হতাশাগ্রস্ত প্রবাসীরা জানায়, রাতে দূতাবাস যখন এই বিজ্ঞপ্তিটি প্রচার করে তখন আমরা অনেক প্রবাসীই ঘুমিয়ে ছিলাম। পরের দিন সকালে যথারীতি কাজে যাওয়ার পর আমরা বিষয়টি জানতে পারি। জানতে পারি যখন অনলাইনের আবেদন ফরমে যাবতীয় তথ্য লিখে দূতাবাসে পাঠালাম তখনই দেখলাম সার্ভারটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

প্রথমে মনে করলাম হয়তো কারিগরি ত্রুটির কারণে এমন হচ্ছে। পরে জানতে পারলাম ২ হাজার ৫০০ জন প্রবাসী বাংলাদেশি নিবন্ধিত হওয়ার পর দূতাবাস থেকে সার্ভারটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তারপর থেকেই নাম নিবন্ধন করতে না পারা দেশে ফিরতে ইচ্ছুক প্রবাসীর অনেকে বৈরুত দূতাবাসের ফেসবুক পেইজসহ বিভিন্ন যোগযোগ মাধ্যমে পুনরায় সুযোগ দেবার অনুরোধ করতে থাকেন।

সুযোগটি বন্ধের সত্যতা স্বীকার করে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, অবৈধ প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্বেচ্ছায় দেশে ফেরার জন্য নেওয়া বাংলাদেশ দূতাবাসের বিশেষ কর্মসূচির আওতায় প্রথম দফায় ২ হাজার ৩৮৩ জনের নাম নিবন্ধন করা হয়। এর মধ্যে ৫০০ জনকে দেশে পাঠানো সম্ভব হয়েছে।

lebanonতিনি বলেন, লেবাননের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং জেনারেল সিকিউরিটি ধীরগতি ও নতুন নিয়মের কারণে দ্বিতীয় ধাপে ২ হাজার ৫০০ জনের নাম নিবন্ধনের সিদ্বান্ত নেওয়া হয়। সে হিসেবে অনলাইনে নিবন্ধনের জন্য একটি সফটওয়্যার তৈরি করা হয়, যায় সর্বোচ্চ নিবন্ধন করার ক্ষমতা ২ হাজার ৫০০ জন। এরপরই এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। যেমনটি হয়েছে’।

তিনি সংশ্লিষ্ট প্রবাসীদের হতাশ না হওয়ার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, দুই ধাপে নিবন্ধন করা ৫ হাজার জনের মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য সংখ্যক প্রবাসী দেশে ফেরার পরপরই পরবর্তী ধাপের নিবন্ধন শুরু হয়ে যাবে এবং পর্যায়ক্রমে সবারই নিবন্ধন ও দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য বাংলাদেশ দূতাবাস তার সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রাখবে।

তিনি অবৈধভাবে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্বেচ্ছায় দেশে ফেরার এবারের সুযোগ হাতছাড়া না করার অনুরোধ রাখেন। কারণ বারবার এমন সুযোগ লেবানন সরকারের কাছ থেকে নেওয়া কষ্টসাধ্য ব্যাপার।

লেবাননে গত ৫ মাস ধরে বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ডলার সংকটের কারণে অনেকে প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মী বেকার হয়ে পড়েছেন। কেউ নিয়মিত কোম্পানিতে কাজ করলেও সময় মতো বেতন পাচ্ছে না। আবার কেউ কেউ দেশ থেকে টাকা এনে জীবন চালাচ্ছে। এর মধ্যে অবৈধ হয়ে যাওয়া প্রবাসীদের অবস্থা সবচেয়ে করুণ। তাই বাংলাদেশ দূতাবাসের বিশেষ কর্মসূচিতে দেশে ফেরার জন্য মরীয়া হয়ে ওঠেছেন বেশিরভাগ অবৈধরা।

সৌজন্যে- জাগো নিউজ