cosmetics-ad

ভারতের লাভ নগদে, অপেক্ষার পালা বাংলাদেশের

Hasina-modi

মোদির সফরে ভারতের লাভ নগদে হলেও বাংলাদেশকে সুফল পেতে অপেক্ষা করতে হবে। ভারত তার দীর্ঘ দিনের চাওয়া অনুযায়ী চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর ব্যবহারের সুযোগ পেল। সই হওয়া সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) অনুযায়ী এ দুই বন্দর ব্যবহার করে নৌ, রেল, সড়ক ও এই তিনটির সমন্বয়ে বহুমাত্রিক পরিবহনব্যবস্থায় (মাল্টি মডেল ট্রান্সপোর্ট) ভারত তার ভূমিবেষ্টিত উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যসহ অন্যত্র পণ্য পরিবহন করতে পারবে।

কলকাতা-ঢাকা-আগরতলার মধ্যে বাস সার্ভিসের মাধ্যমে ভারতের মূল ভূখণ্ডের সাথে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যের সরাসরি যাত্রী পরিবহনের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। ভারতের বেসরকারি কোম্পানি বাংলাদেশে চার হাজার ৬০০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন দু’টি বৃহৎ বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের ব্যবসাও পেয়েছে।

অন্য দিকে তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি না হলে ভারত বাংলাদেশের বন্দরব্যবহার সুবিধা পাবে না, এমন অবস্থান থেকে সরকার সরে এসেছে। ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে তখনকার প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফরকালে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির আপত্তির মুখে তিস্তাচুক্তি সইয়ে অপারগতা প্রকাশ করে ভারত। আর এ পরিপ্রেক্ষিতে ভারতকে চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর ব্যবহারে সম্মতিপত্র সই করা থেকে বিরত ছিল বাংলাদেশ। মোদির সফরে তিস্তা চুক্তি না হলেও বাংলাদেশের বন্দর ব্যবহারের সুযোগ পেয়েছে ভারত।

মোদির সফরসঙ্গী হিসেবে মমতা ব্যানার্জি ঢাকা এলেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে একান্ত বৈঠকে তারা কী আলাপ করেছেন তা অজানা থেকে গেল। কিন্তু যৌথ ঘোষণায় মোদি তিস্তার সাথে ফেনী নদীর পানিবণ্টনকে জুড়ে দিয়েছেন। ভারতের সহযোগিতায় যৌথভাবে পদ্মা নদীর ওপর গঙ্গা ব্যারাজ নির্মাণে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে মোদি শুধু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখার আশ্বাসই দিয়েছেন।

মোদির সফরে ভারত যে ২০০ কোটি ডলারের ঋণ ঘোষণা করেছে তাতে মূলত সড়ক, রেলওয়ে, অভ্যন্তরীণ নৌপথ ও বন্দরসংক্রান্ত উন্নয়ন প্রকল্প নেয়ার লক্ষ্যের কথা যৌথ ঘোষণায় বলা হয়েছে, যা প্রকারান্তরে ভারতীয় পণ্য পরিবহনে ট্রানজিট অবকাঠামোই গড়ে তুলবে। এই ঋণের আওতায় যেসব গণপরিবহন আনা হবে তাও ভারতীয় কোম্পানিগুলোর কাছ থেকেই কিনতে হবে।