sentbe-top

বিমানে বিতর্কিত নিয়োগ : ঝুঁকির মুখে দেড় হাজার কর্মচারীর ভাগ্য

bimanআদালতের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও বিমানের বিতর্কিত এমডি ব্রিটিশ নাগরিক কাইল হেউডের যোগসাজসে চিহ্নিত এক অসাধু কর্মকর্তা ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিএফসিসি’র প্যানটিম্যান পদে (অস্থায়ী) ২৫ জনকে নিয়োগ দিয়েছেন।

অভিযোগ উঠেছে, প্রার্থীদের কাছ থেকে জন প্রতি আড়াই থেকে তিন লাখ টাকা করে নিয়োগ বাণিজ্য করেছেন ওই কর্মকর্তা। এই নিয়োগ বাণিজ্যের কারণে বিমানে অস্থায়ী (ক্যাজুয়াল) কর্মচারীদের স্থায়ী করণের বিষয়টি নিয়েও জটিলতা তৈরি হতে শুরু করেছে বলে জানা গেছে।

বিমান কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনেকেই আক্ষেপের সাথে বলেছেন, আদালতের নির্দেশ অমান্য করে এই সময় এ ধরনের নিয়োগ বাণিজ্য মানে ১৫১০ জন ক্যাজুয়াল এমপ্লয়ির ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলা। এসব অবৈধ নিয়োগ ও অপকর্ম নিয়ে সমালোচনা এবং লেখালেখির পর তৈরি হয় হট্টগোল। তারপর তদন্ত, ব্যবস্থা গ্রহণ ইত্যাদির মাধ্যমে পরিস্থিতি জটিল থেকে জটিলতর হতে থাকে।

আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও কিভাবে এ কাজটি করলেন, এমন প্রশ্নের উত্তরে বিমানের সংশ্লিষ্ট প্রকিউরমেন্ট অ্যান্ড লজিস্টিক সাপোর্ট শাখার পরিচালক ডা. মো. শফিকুর রহমান বলেন, এই নিয়োগের বিষয়ে ম্যানেজমেন্টের অনুমতি নেয়া ছিল। আমার ডিপার্টমেন্ট হলেও এ বিষয়ে আমি ভালো কিছু বলতে পারবো না।

আদালত কি ম্যানেজমেন্টের অধীনে, এমন প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে শফিকুর রহমান বলেন, নিয়োগগুলো বিএফসিসি’র জেনারেল ম্যানেজার দিয়েছেন। তিনিই ভালো বলতে পারবেন কিভাবে দিলেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিমান ফ্লাইট ক্যাটারিং সেন্টারের জেনারেল ম্যানেজার ও নিয়োগ দাতা খান মোশাররফ হোসেন বলেন, বিএফসিসি’র ম্যানেজমেন্ট বিমান থেকে আলাদা। আদালতের নিষেধাজ্ঞা আছে বলে আমার জানা নেই। তবে প্রার্থীদের কাছ থেকে টাকা টাকা নেয়ার বিষয়টি স্বীকার করেননি তিনি।

উল্লেখ্য, বিমানের কর্মরত জনবল সংক্রান্ত পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, ২০০৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত স্থায়ী জনবল ছিল ৪৫৯৯ জন, অস্থায়ী (ক্যাজুয়াল) ৭৫৬ জনসহ সর্বমোট ৫৩৫৫ জন। ৩১ ডিসেম্বর তা দাঁড়ায় স্থায়ী জনবল ২৭৯২ জনে, অস্থায়ী (ক্যাজুয়াল) ১৪২৩ জনসহ সর্বমোট ৪২১৫ জন। আবার ২০০৮ সালের ৩১ ডিসেম্বরে স্থায়ী জনবল ২৮৭৪ জন, অস্থায়ী (ক্যাজুয়াল) ১৮০৯ জনসহ সর্বমোট ৪৬৮৩ জন হয়। বর্তমানে স্থায়ী জনবল ৩১৯৭ জন, অস্থায়ী (ক্যাজুয়াল) ১৫১০ জনসহ সর্বমোট ৪৭০৭ জন।

sentbe-top