cosmetics-ad

ট্রাম্পে আস্থার কথা শোনালেন শিনজো আবে

base_1479444682-1

নির্বাচিত হওয়ার পরে প্রথম কোনো বিদেশি নেতার সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন ৪৫তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৈঠকের জন্য তিনি বেছে নিয়েছিলেন ঐতিহাসিক মিত্র জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবেকে। বৃহস্পতিবার (১৭ নভেম্বর) নিউইয়র্কের ট্রাম্প টাওয়ারে বৈঠক করেন এ দুই নেতা। বৈঠক শেষে ট্রাম্পের প্রতি আস্থা রাখার কথা জানান আবে।

নির্বাচনে জয়লাভের পরেপরেই ট্রাম্পকে ফোন করে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন আবে। পেরুতে এশিয়া-প্যাসিফিক ট্রেড সামিটে যোগ দিতে যাওয়ার পথে নিউইয়র্কে ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করবেন বলেও জানিয়েছিলেন তিনি। এবার ঘোষণা অনুযায়ী প্রায় দেড় ঘন্টাব্যাপী বৈঠকে মিলিত হন এ দুই নেতা। বৈঠকের পরিবেশকে ‘উষ্ণ ও খোলামেলা’ বলে উল্লেখ করেন আবে।

আবে বলেন, ‘অনেক সময় নিয়ে আমরা একটি খোলামেলা আলোচনায় অংশ নিতে পেরেছি। খুব উষ্ণ একটি পরিবেশে এ বৈঠক হয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, দুটি দেশের মধ্যে আস্থা না থাকলে ভবিষ্যতে তারা একজোট হয়েও ভালো কাজ করতে পারে না। আজকের আলোচনায় আমি ট্রাম্পকে বোঝাতে পেরেছি যে, তিনি এমন এক নেতা, যার ওপর আমার ব্যাপক আস্থা রয়েছে।’ বৈঠকে উভয় দেশের মধ্যে বিশ্বাসের বন্ধন গড়ে তোলার ব্যাপারেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

তবে বৈঠকে কী কী ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়েছে সে ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি। আবে শুধু জানিয়েছেন বিভিন্ন ইস্যুতে গভীরতর আলোচনার জন্য আবারো মিলিত হওয়ার ব্যাপারে তারা সম্মত হয়েছেন।

প্রসঙ্গত, নির্বাচনী প্রচারণায় ট্রাম্প বলেছিলেন, জাপানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটির ব্যয় নির্বাহে জাপানের আরো অর্থ বরাদ্দ করা উচিত। ট্রাম্পের এ বক্তব্যে বহির্বিশ্বে নিজের সবচেয়ে বড় মিত্র দেশের সাথে ভবিষ্যৎ সম্পর্ক নিয়ে রীতিমত উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে জাপান।

ট্রাম্প সেসময় জাপান ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর সাথে বারাক ওবামার করা বাণিজ্য চুক্তির কড়া সমালোচনা করেছিলেন। তবে চুক্তিটিকে প্রচণ্ডভাবে সমর্থন করেন আবে। চীনের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ঠেকানোর ক্ষেত্রে এ চুক্তিকে খুব কার্যকরী বলে মনে করেন তিনি। এরইমধ্যে জাপানের পার্লামেন্টে চুক্তিটি অনুমোদন লাভ করেছে।

ফলে নিজেদের এ উদ্বেগ কমাতে উদ্যোগী হয় আবে প্রশাসন। ট্রাম্পের বিজয়ের সাথে সাথে তাকে ফোন করে অভিনন্দন জানান জাপানের প্রধানমন্ত্রী। এবার নিউইয়র্কে উড়ে এসে ট্রাম্পের সাথে দেখা করে বৈঠক করলেন তিনি। আর এসবই ঐতিহাসিক মিত্রতা বজায় রাখার চেষ্টা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

ট্রাম্পের প্রথম বিদেশী নেতার সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য আবেকে বেছে নেয়াটাও একটি বিশেষ ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। প্রচারণায় যাই বলুন না কেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিজের অবস্থান থেকে সরে এসে জাপানের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখা ও প্রয়োজনে তা উন্নয়নের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে ট্রাম্পের আগ্রহ রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জাপানের মন্ত্রীসভার বিশেষ উপদেষ্টা তমোহিকো তানিগুচি’র কথায়ও সেই আভাস মিলেছে। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনী প্রচারণার সময়কার মনোভাব বদলে ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন ভবিষ্যৎ সম্পর্কের দিকে তাকাতে চাইছেন।’

সূত্র: বিবিসি ও রয়টার্স