cosmetics-ad

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ইতিহাসের বৃহত্তম সমাবেশ করবে লন্ডনবাসী

london

চলতি বছরের শেষের দিকে যুক্তরাজ্য সফরের কথা রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। এদিকে এই খবরে ক্ষুব্ধ লন্ডনবাসী। ওই সফরের প্রতিক্রিয়ায় স্মরণকালের সবচে বড় প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দিয়েছে ব্রিটেনের একদল ট্রাম্পবিরোধী সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারী।

গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়ে নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ব্রিটিশ রানীর পক্ষ থেকে যুক্তরাজ্য সফরের আমন্ত্রণ জানান দেশটির প্রধানমন্ত্রী টেরিসা মে। পরে হোয়াইট হাউসের এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, চলতি বছরের শেষের দিকে ব্রিটেন সফরে যাবেন ট্রাম্প।

ওই খবরের পরই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে লন্ডনের অনেকে। সামাজিক মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ‘টম লন্ডন’ নামের একটি জনপ্রিয় টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে বলা হয়েছে, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন যুক্তরাজ্য আসবেন, চলুন তখন স্মরণকালের সবচে বড় প্রতিবাদ প্রদর্শন করি। তাকে এবং বিশ্ববাসীকে জানিয়ে দেই, ব্রিটিশ জনগণ তাকে স্বাগত জানায়নি।’

এর মন্তব্যে একজন লিখেছেন, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প আসলে আমাদের উচিৎ হবে স্মরণকালের বৃহত্তম প্রতিবাদ প্রদর্শন করা। লন্ডনকে পুরোপুরি অচল করে দিন।’

ফেসবুকে কেভিন উইলশার লিখেছেন, ‘লন্ডনে বাইরে থেকে আরো প্রতিবাদকারী আসবে। রানী ট্রাম্পকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন….#শুধু বলার জন্য বলা’

ইতিমধ্যে ট্রাম্পের ব্রিটেন সফরের প্রতিবাদ জানাতে ‘স্ট্যান্ড আপ টু রেসিজম’ নামের একটি সংগঠনও তৈরি করা হয়েছে। ফেসবুকে একটি ইভেন্টও খুলেছে তারা। আপাতত ১ জুলাই একটি সমাবেশের দিন ধার্য করা হয়েছে ইভেন্টে। তবে ট্রাম্পের সফরের তারিখ নিশ্চিত হওয়ার পর তা পরিবর্তন করা হতে পারে।

তাদের সমর্থন দিয়েছে ব্রিটেনের পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ বিষয়ক সংগঠন ‘ক্যাম্পেইন ফর নিউক্লিয়ার ডিজআর্মামেন্ট’। জনগণকে ট্রাম্পের ‘বর্ণবাদ, লিঙ্গবৈষম্য এবং একগুয়েমি’ রুখে দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে তারা।

ফেসবুকের ওই ইভেন্টের বর্ণনায় লেখা হয়েছে, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাষ্ট্রীয় সফরের ওই আমন্ত্রণ লাখো ব্রিটিশ প্রতিহত করবে। সমাবেশ বাস্তবায়নে আমাদের সরকার এবং তাদের নীতির দিকে তাকিয়ে থাকার দরকার নেই।’

ট্রাম্পের শপথ অনুষ্ঠানের পর থেকে লন্ডনে চলে আসা নারীদের বিক্ষোভ মধ্যেই এই ঘোষণা এলো।

প্রসঙ্গত, এর আগে গত শুক্রবার (২৭ জানুয়ারি) ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে জারি করে জানান, পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত সিরিয়া থেকে কোনো শরণার্থী যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে পারবেন না। একইসাথে যুক্তরাষ্ট্রের শরণার্থী গ্রহণের প্রক্রিয়া পরবর্তী ৪ মাস পুরোপুরি বন্ধ থাকবে। মোট ৭টি মুসলিম দেশ থেকে ভিসাপ্রাপ্তদের পরবর্তী ৩ মাস যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ স্থগিত থাকবে। দেশগুলো হল: ইরান, ইরাক, লিবিয়া, সিরিয়া, সোমালিয়া, সুদান এবং ইয়েমেন।

ইতিমধ্যে ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা আইওএম। এছাড়া এই খবরে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে নোবেলজয়ী মালালা ইফসুফজাই, ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জুকারবার্গ ও গুগল সিইও সুন্দর পিচাই।

সূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট