আখেরি মোনাজাতে শেষ হলো ইজতেমার প্রথম পর্ব

ijtema

আখেরি মোনাজাতে সৃষ্টিকর্তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা, দেশ ও মানবতার কল্যাণ কামনার মাধ্যমে বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব শেষ হয়েছে। আজ রোববার বেলা ১০টা ৪০ মিনিটে মোনাজাত শুরু হয়ে তা শেষ হয় ১১টা ১৫ মিনিটে। মহান আল্লাহর দরবারে দুই হাত তুলে কেঁদে কেঁদে ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি সারা দুনিয়ার মানুষের জন্য রহমত ও শান্তি কামনা করেছেন লাখো মুসল্লি।

রোববার টঙ্গীর তুরাগ তীরে মোনাজাতে অংশ নিতে ঢল নামে লাখো মুসল্লির। বিশ্ব ইজতেমার আথেরি মোনাজাত পরিচালনা করেনকাকরাইল মসজিদের ইমাম তাবলিগের শুরা সদস্য মাওলানা জুবায়ের হাসান।

ইজতেমার ৩ দিনের বয়ান শুনতে মুসল্লিদের বেশির ভাগ প্রথম দিনই তুরাগতীরে সমবেত হন। আবার মোনাজাতে অংশ নিতে ভোররাত থেকে হেঁটে ইজতেমাস্থলে পৌঁছান অনেক মুসল্লি। সকাল ৮টার আগেই ইজতেমার মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। মুসল্লিরা মাঠের আশপাশের রাস্তা, অলিগলিতে অবস্থান নেন।

গত শুক্রবার ভোরে আম বয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল ৫৩তম বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব। এই পর্বে অংশ নেন ঢাকাসহ ১৭ জেলার মুসলমানরা।

এছাড়াও এ পর্বে আমেরিকা, সৌদি আরব, ভারত, পাকিস্তান, তুরস্ক, লেবানন, ফিলিপাইন, আফগানিস্তাান, থাইল্যান্ড, আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া ও ইংল্যান্ডসহ বিশ্বের ৮৫টি দেশের প্রায় সাড়ে ৪হাজার বিদেশি মুসল্লি অংশ নিয়েছেন।

চার দিন বিরতি দিয়ে ঢাকা ছাড়াও আরও ১৫ জেলার মুসলমানদের অংশগ্রহণে ২০ জানুয়ারি শুরু হবে বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব। ২১ জানুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মধ্যামে শেষ হবে এবারের বিশ্ব ইজতেমা।

উল্লেখ্য, ঢাকার রমনা উদ্যানসংলগ্ন কাকরাইল মসজিদে ১৯৪৬ সালে প্রথম ইজতেমার আয়োজন করা হয়। মুসল্লির সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় ১৯৪৮ সালে ইজতেমার স্থান পরিবর্তন করে বর্তমান হাজি ক্যাম্পের স্থলে নেওয়া হয়। ১৯৫৮ সালে ইজতেমা হয় সিদ্ধিরগঞ্জে। মুসল্লি আরও বাড়তে থাকায় সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে ১৯৬৬ সালে টঙ্গীর তুরাগতীরের মাঠে ইজতেমার স্থান নির্ধারণ করা হয়। সেই মাঠেও স্থান সংকুলান না হওয়ায় ২০১১ সাল থেকে দুই পর্বে ইজতেমা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।