sentbe-top

দ্বিগুণ মুনাফার লোভ দেখিয়ে ৪৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ

unipay-to-youগ্রাহকদের দ্বিগুণ মুনাফা দেয়ার লোভ দেখিয়ে ইউনিপেটু ইউ নামে একটি মাল্টি লেভেল কোম্পানি (এমএলএম) ৪৪ কোটি চার লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এ ঘটনায় রাজধানীর শাহবাগ থানায় একটি মামলা হয়েছে। বুধবার টাকা আত্মসাতে জড়িত চার ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি।

বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে সিআইডির সদর দপ্তরের আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) বিশেষ পুলিশ সুপার মোল্লা নজরুল ইসলাম এসব কথা জানান।

নজরুল ইসলাম বলেন, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিলেজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) থেকে একটি অনুসন্ধান প্রতিবেদনের সূত্র ধরে সিআইডির ক্রাইম অর্গানাইজড দল তদন্ত শুরু করে। অনুসন্ধানে ইউনিপেটু ইউয়ের দুই কর্মকর্তা ও দুই এজেন্টের ৪৪ কোটি চার লাখ ৮৫ হাজার ৯৫১ টাকা আত্মসাতের সত্যতা খুঁজে পাওয়া যায়।

আত্মসাৎ হওয়া ৪৪ কোটি চার লাখ টাকার মধ্যে ইউনিপেটু ইউয়ের নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইকবাল আলীর হিসাব থেকে ৫০ লাখ এবং ৩৮ লাখ টাকার সন্ধান পেয়েছে সিআইডি। এছাড়াও প্রেসটিজ নামের ইউনিপেটু ইউয়ের অন্য এক সদস্যের হিসাবে ২২ লাখ টাকার সন্ধান পাওয়া গেছে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ৪৪ কোটি চার লাখ টাকা আত্মসাতের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোনো ব্যাংক কর্মকর্তার জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

এই কর্মকর্তা আরও জানান, টাকা আত্মসাতের এ ঘটনায় বুধবার রাতে সিআইডির ক্রাইম অর্গানাইজডের দলের এক সদস্য বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় একটি মামলা করেছেন। শাহবাগ থানার মামলা নম্বর-১৬। প্রতারণায় জড়িত এই কোম্পানির অন্য সকল কর্মকর্তা কর্মচারীদের আইনের আওতায় আনবে সিআইডি।

এ ঘটনায় বুধবার রাতে রাজধানীর শাহবাগ এলাকা থেকে চারজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) দল। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- ইউনেপটু ইউয়ের নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইকবাল আলী, কনিষ্ঠ নির্বাহী দেওয়ান মো. মঞ্জুর কবির, এজেন্ট এ এস এম জিয়াউল হক এবং সাব এজেন্ট মো. মিলন হাসান।

মোল্লা নজরুল ইসলাম জানান, মাল্টিলেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) কোম্পানি ইউনিপেটু ইউ বাংলাদেশ লিমিটেড নামের একটি কোম্পানি ২০০৯-২০১২ সাল পর্যন্ত বহুস্তর বিশিষ্ট বিপণন পদ্ধতির মাধ্যমে দেশব্যাপী সাধারণ গ্রাহকদের কাছ থেকে বিপুল টাকা হাতিয়ে নেয়। এরা সাধারণত জনসাধারণকে বিভিন্নভাবে ধোঁকা দিয়ে প্রতারণা করে টাকা সংগ্রহ করত। গ্রাহকদের তারা বলতো জমাকৃত টাকা ১০ মাসে দ্বিগুণ হবে এবং মালোয়শিয়ায় স্বর্ণ কিনে রাখা হবে। গ্রাহকদের টাকা জমা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইউনিপেটু ইউয়ের নিজস্ব পদ্ধতির মাধ্যমে গ্রাহকদের হিসাবে ভুয়া ভার্চুয়াল ডলার জমা দেখানো হতো। প্রকৃতপক্ষে কোনো ডলার জমা হতো না। এভাবেই সাধারণ মানুষের হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে ইউনিপেটু ইউ।

sentbe-top