sentbe-top

মানব পাচারকারী চক্রের নাটের গুরু গ্রেপ্তার

achemআন্তর্জাতিক মানব পাচারকারী চক্রের নাটের গুরুকে গ্রেপ্তারের দাবি করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির নাম মোহাম্মদ আছেম। তিনি রাজধানীর তেজগাঁও কলেজের প্রভাষক। এ পরিচয়ের আড়ালে তিনি মানব পাচারের কাজ করে আসছিলেন।

সিআইডির বিশেষ সুপার মোল্যা নজরুল ইসলাম আজ সোমবার সিআইডি কার্যালয়ের এক সংবাদ সম্মেলনে মোহাম্মদ আছেম ও তাঁর সহযোগীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে শতকোটি টাকা লেনদেনের তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি জানান, আছেম ও তাঁর সহযোগীরা বিদেশে যেতে চান—এমন লোকজনকে নৌকায় করে প্রথমে মিয়ানমার ও পরে থাইল্যান্ডে নিয়ে যেতেন। তারপর থাইল্যান্ডে আটকে রেখে পাচারের শিকার লোকজনের মাধ্যমে তাঁদের পরিবারের কাছ থেকে টাকা আদায় করতেন। এই টাকা লেনদেন হয়েছে ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে।

পুলিশ বলছে, মোহাম্মদ আছেম একটি সংঘবদ্ধ চক্রের ‘গডফাদার’। এই চক্র কয়েকটি ভাগে ভাগ হয়ে বাংলাদেশ, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছে। গোটা দেশেই এই চক্রের সদস্যরা সক্রিয় আছে বলে আশঙ্কা করছে পুলিশ।

মোহাম্মদ আছেম প্রথম দফায় ১৪ আগস্ট গ্রেপ্তার হন। তিন দিন পরই আদালত তাঁকে জামিনে মুক্তি দেন। পরে ১৯ আগস্ট পুলিশ আবার তাঁকে গ্রেপ্তার করে। তাঁর নামে তিনটি মামলা রয়েছে। সিআইডির একটি সূত্র জানাচ্ছে, বছর দেড়েক আগে আদালত তাঁর নামে পরোয়ানা জারির আদেশ দিলেও সেই পরোয়ানা আর পুলিশের হাতে পৌঁছায়নি, আদালতেই রয়ে গিয়েছিল। গতকাল ওই পরোয়ানাসহ নতুন করে রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে আদালতে গেছে পুলিশ।

যেভাবে শনাক্ত হলেন মো. আছেমঃ ২০১৬ সালের ১১ মার্চ আবদুস সালাম সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া থানায় মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে মামলা করেন। তিনি মামলার এজাহারে অভিযোগ করেন, ২০১৪ সালে একটি চক্র তাঁর ছেলে মাসুদকে মালয়েশিয়ায় পাচার করে। পরে তারা ফোনে ৩ লাখ ১০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। না হলে মাসুদকে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেয়। আবদুস সালাম মহাখালীতে ইসলামি ব্যাংকের একটি অ্যাকাউন্টে ওই টাকা পরিশোধ করেন।

সিআইডির সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন বিভাগ মামলাটির তদন্ত শুরু করে। অ্যাকাউন্টের সূত্র ধরে তদন্ত করে সিআইডি দেখতে পায়, মুক্তিপণ আদায়কারী চক্রটি শত শত মানুষকে এভাবে পাচার করেছে। চক্রটির প্রধান আছেম।

আছেম তাঁর নিজ নামে, ছোট ভাই জাভেদ মোস্তফা, মা খাদিজা বেগম ও অন্যান্য সহযোগী আরিফ, একরাম, ওসমান সারোয়ারের নামে ঢাকা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও টেকনাফে ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে মানব পাচারের অর্থ গ্রহণ করেছেন। পরে এসিএম করপোরেশন নামে একটি প্রতিষ্ঠানও খোলেন তিনি।

মানব পাচারে যুক্ত গোটা পরিবারঃ সিআইডির অনুসন্ধানে জানা গেছে, মোহাম্মদ আছেমের বাবা মো. আনোয়ার হোসেন ও বড় ভাই মো. খোবাইদ দীর্ঘদিন ধরে মালয়েশিয়াপ্রবাসী। তাঁদের সঙ্গে মানব পাচারকারী চক্রের সখ্য গড়ে ওঠে। পরে আছেমের মাধ্যমে তাঁরা বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিদেশ গমনেচ্ছুক লোকজনকে সাগরপথে বিদেশে পাঠাতে শুরু করেন এবং বিদেশে নেওয়ার পর মুক্তিপণ দাবি করেন।

জিজ্ঞাসাবাদে সিআইডি থাইল্যান্ডের কারাগারে অন্তত ২০ জনকে আটক থাকার কথা জানতে পারে। কোনো রকম কাগজপত্র ছাড়া অবৈধভাবে বিদেশে যাওয়ার অপরাধে সেসব দেশের পুলিশ বাংলাদেশিদের গ্রেপ্তার করে জেলে ঢুকিয়েছে।

সিআইডির বিশেষ সুপার মোল্যা নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, আছেমের পরিবারের অন্য সদস্যরা এখন পলাতক। তাঁদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। মালয়েশীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও পুলিশ যোগাযোগ শুরু করবে।

সৌজন্যে- প্রথম আলো

sentbe-top