দক্ষিণ কোরিয়ায় তৃতীয় বারের মত ইপিএস মতবিনিময় সভা

eps-mettingমোহম্মদ আল আজিম, সিউল থেকে

দক্ষিণ কোরিয়ায় ইপিএস কর্মীদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে রবিবার বাংলাদেশ দূতাবাসের আয়োজনে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সিউলস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের হলরুমে ইপিএসে আগত প্রবাসী বাংলাদেশীরা অংশগ্রহণ করেন এই মতবিনিময় সভায়। দক্ষিণ কোরিয়া প্রবাসী বাংলাদেশীদের বিভিন্ন সমস্যা ও সমাধান নিয়ে মতবিনিময় করেন সিউলস্থ বাংলাদেশ রাষ্ট্রদূত আবিদা ইসলাম। এইসময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রধান সচিব (শ্রম) মকিমা বেগম, কনস্যুলার মাসুদ রানা সহ দূতাবাস কর্মকর্তাবৃন্দ। দক্ষিণ কোরিয়ায় ইপিএস বিষয় নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং কর্মীরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

কোরিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত আবিদা ইসলামের কাছে ইপিএস বিষয়ের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন বক্তারা। সভায় রাষ্ট্রদূত আবিদা ইসলাম বলেন, ওয়েল ফেয়ার ট্রাস্ট ফান্ড তৈরী করা গেলে বাংলাদেশী প্রবাসীরা বড় ধরনের সমস্যা যেমন কেউ মারা গেলে, কেউ অসুস্থ হলে তাকে সহযোগিতা করা আমাদের জন্য সহজ হবে। রাষ্ট্রদূত আবিদা ইসলাম বাৎসরিক ওয়েল ফেয়ার ট্রাস্ট ফান্ড করার বিষয়ে প্রবাসী বাংলাদেশীদের আহ্বান জানিয়েছেন। এছাড়া অসুস্থ ইপিএস কর্মীদের সহযোগিতা প্রদান অসুস্থ ব্যাক্তিদের পাশে দাঁড়ানোসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে মতামত ব্যক্ত করেন রাষ্ট্রদূত।

প্রশ্ন উওর পর্বে বাংলাদেশী প্রবাসীরা বলেন, দক্ষিণ কোরিয়ায় ভিসা পরিবর্তন করে অনেকেই পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করতে চাই, সেক্ষেত্রে এই দেশে বাংলাদেশী প্রাইমারী লেভেলের স্কুল নেই, তাই দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশী নতুন প্রজন্ম বাংলা শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, ইপিএস বাংলার সাবেক সভাপতি শান্ত শেখ,আবেদন করেন আগামীতে একটি প্রাইমারী স্কুল করার বিষয়ে, কোরিয়ায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশীরা এই বিষয়ে জোর দাবি জানান। আগামীতে একটি প্রাইমারী স্কুল করার বিষয়ে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন রাষ্ট্রদূত আবিদা ইসলাম।

এর আগে গতবছর ২৪ জুন ২৩ ও সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ দূতাবাসের আয়োজনে দুটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়, এই দুটি সভায় গুরুত্ব দেওয়া হয় উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় শাখা খুলার বিষয়ে, এবছর দক্ষিণ কোরিয়ায় খুব শীঘ্রই চালু হতে যাচ্ছে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, উচ্চতর শিক্ষার পথ সুগমের লক্ষে , সিউলস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস এবং বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে দূরশিক্ষণের মাধ্যমে শুধুমাত্র “ মানবিক শাখার জন্য ” হায়ার সেকেন্ডারি সার্টিফিকেট শিক্ষা কার্যক্রম চালু করবার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে বলে দূতাবাস থেকে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।

আজকের সভায় আবারও উঠে আসে ইপিএস কর্মীদের মেয়াদ শেষে দেশে ফিরে যাওয়ার পর উদ্যোক্তা তৈরী ও প্রশিক্ষণের সহায়তা প্রদানের ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করেন রাষ্ট্রদূত আবিদা ইসলাম।। এছাড়াও জাতীয় পরিচয় পত্র স্মার্ট কার্ড কোরিয়া প্রবাসীদের দেওয়া হয় কোরিয়াতে এই বিষয়টি অবগত করান ইপিএস বাংলার সাবেক সভাপতি শান্ত শেখ।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন রাষ্ট্রদূত আবিদা ইসলাম নিজেই। তিনি ইপিএস কর্মীদের বিভিন্ন তথ্য সেবা দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য দক্ষিণ কোরিয়ার সামাজিক সংগঠনগুলোর ভূয়সী প্রশংসা করেন। সভায় কোরিয়ায় বাংলাদেশী প্রবাসীদের অবস্থান, ইপিএসের অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যত, ইপিএসের সমস্যা ও সমাধানের উপায়, অন্যান্য দেশের চেয়ে ইপিএসে বাংলাদেশ কিভাবে আরও বৃদ্ধি করা যায় এবং ইপিএসে আরো বেশি বাংলাদেশী নিয়োগের উপায়সহ ইপিএসের সার্বিক সমস্যার কথা তুলে ধরেন বক্তারা।

রাষ্ট্রদূত আবিদা ইসলাম এসকল বিষয়ে সমাধানের আশ্বাস দিয়ে বলেন ‘কোরিয়ায় প্রবাসীদের প্রতিটি বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার করা হবে এবং সবসময় বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা থাকবে আপনাদের জন। এবং সর্বোচ্চ সেবা প্রদান ও কোরিয়া প্রবাসীদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে আপনাদের।

দ্বিতীয় পর্বে দূতাবাস পরিবার ও কোরিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশী নাগরিকদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষে বাংলাদেশী খাবার পরিবেশন করা হয়।