cosmetics-ad

দেশেই ইউরোপিয়ান সবজির বাম্পার ফলন

bokliসাতক্ষীরায় বাণিজ্যিকভাবে এই প্রথম চাষ হচ্ছে ইউরোপিয়ান ফসল লিভিয়া জাতের সবজি ব্রোকলি। খেতে বেশ সুস্বাদু ও কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় এই সবজির চাষ এখন ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। আকারে ফুলকপির মত নতুন জাতের ব্রোকলি নামের এই শীতকালীন সবজিটি চাষ হচ্ছে সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটায়। ব্রোকলি চাষে ইতোমধ্যে লাভবান হতে শুরু করেছেন কৃষকরা।

তালা উপজেলার নগরঘাটা গ্রামের কৃষক মাসুদ হোসেন জানান, ব্রোকলি আকারে ফুলকপির মত হলেও ফুলগুলো সাদার পরিবর্তে পাতার রঙের মত সবুজ। স্বাদে ও গুণে অসাধারণ এই সবজিটি। প্রতি পিস ব্রোকলি ওজনে ৭০০ গ্রাম থেকে ১ কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে। স্থানীয় বিভিন্ন বাজারে প্রতি পিস ব্রোকলি সাইজ অনুযায়ী ২০ থেকে ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাসুদ হোসেন জানান, পরীক্ষামূলকভাবে এ বছর ৮ শতক জমিতে এই সবজির চাষ শুরু করেই এলাকায় বেশ সাড়া জাগিয়েছেন। মৌসুমের শুরুতেই ১২শ’ পিস ব্রোকলির বীজ সংগ্রহ করে ৮ শতক জমিতে তা রোপন করেন। এতে তার খরচ হয় সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা। ইতোমধ্যে তিনি ৪/৫ হাজার টাকা বিক্রি করেছেন। প্রতি পিচ ৭০০-১০০০ গ্রামের ব্রোকলি জমিতেই পাইকারী ক্রেতাদের কাছে ২০-২২ টাকা দরে বিক্রি করছেন। ৬০-৭৫ দিনের মধ্যে এ সবজি চাষ করে তিনি ২৪-২৫ হাজার টাকা বিক্রি করবেন বলে আশা করেছেন।

সাতক্ষীরার বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা প্রচেষ্টার কৃষি কর্মকর্তা নয়ন হোসেন জানান, সাধারণ ফুলকপির চেয়ে আবাদে খরচ কম আবার বেশি দামে বিক্রি হওয়ায় এ নতুন সবজি চাষে ঝুকছেন এলাকার কৃষকরা। এছাড়া এতে ফুলকপির চেয়ে অধিক পরিমাণ পুষ্টিগুণ রয়েছে। এতে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি ও ভিটামিন কে পাওয়া যায়। সাদা ফুলকপিতে ভিটামিন এ নেই। ব্রোকলিতে ভিটামিন এ থাকায় এই সবজি থেকে চোখের দৃষ্টি শক্তি বাড়ায়। তিনি আরো জানান, ব্রোকলি চাষে কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও উদ্বুদ্ধকরণ করতে তারা কৃষকদের বীজ সরবরাহ করেছেন।

সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক আমজাদ হোসেন জানান, ব্রোকলি সবজি চাষ করে অল্প সময়ে অধিক লাভবান হবেন কৃষকরা। খেতে বেশ সুস্বাদু এ সবজিটি ক্যান্সার প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে থাকে। আগামীতে কৃষকদের ব্রোকলি চাষের সকল প্রকার সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন এই কর্মকর্তা।