cosmetics-ad

কৃষকের নয়, সিন্ডিকেটের ধানে ভরেছে গুদাম

lakshmipur

কৃষকদের ক্ষতি পোষাতে সরকার ভর্তুকি দিয়ে সারাদেশে ধান ক্রয় কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কিন্তু লক্ষ্মীপুর সদরে কৃষকের নয়, সিন্ডিকেটের ধানেই ভরেছে খাদ্যগুদাম। বৃহস্পতিবার বিকেলে সদর উপজেলা খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) রামিম পাঠান জানিয়েছেন, বরাদ্দকৃত ধান কেনা শেষ। নতুন বরাদ্দের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবারও চিঠি দেয়া হয়েছে।

এদিকে কৃষি কার্ড থাকা সত্ত্বেও কয়েক দিন ধরে উপজেলা খাদ্যগুদামে এনে ধান বিক্রি করতে না পারায় চরম ক্ষুব্ধ কৃষকরা। একই সঙ্গে ধান কেনাকে ঘিরে সরকারের নেয়া কর্মসূচি ভেস্তে গেল।

অন্যদিকে জেলার রামগঞ্জ উপজেলা খাদ্যগুদামে আওয়ামী লীগ নেতা দেলোয়ার হোসেন দেলুর সিন্ডিকেট ধান সরবরাহ করার খবর ছড়িয়ে পড়ে। এ অবস্থায় লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ার হোসেন খান সিন্ডিকেটের সরবরাহ করা কৃষি কার্ডগুলো বাতিল করেন। এ সময় এমপি প্রত্যেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের সহযোগিতা নিয়ে প্রকৃত কৃষকদের কার্ড করিয়ে তাদের কাছ থেকে ধান নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন।

lakshmipurজেলা খাদ্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, সদর উপজেলায় সম্প্রতি দুই ধাপে ৯৫৭ টন ধান ক্রয় করা সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। প্রতি মণ ধান ১ হাজার ৪০ টাকা দরে ক্রয় করার জন্য চিঠি দেয়া হয়। এজন্য সদরের কৃষি বিভাগ থেকে খাদ্যগুদামে ১ হাজার ৩৫৮ জন কৃষকের তালিকা পাঠানো হয়।

সদর উপজেলার তিন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান জানান, কৃষকের স্বার্থে ধান কেনার সিদ্ধান্ত সরকারের প্রশংসনীয় উদ্যোগ। লক্ষ্মীপুরে নিয়মরক্ষার জন্য কিছুসংখ্যক কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনা হয়েছে। এটা কেবল লোক দেখানো। ওই কৃষকদের কাছ থেকে প্রতি মণে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা হারে আদায় করেছেন ওসিএলএসডি। অর্থনৈতিক সুবিধা নিয়ে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ট্রাকে ট্রাকে ধান এনে গুদাম ভরা হয়েছে। প্রান্তিক কৃষক তো আর ট্রাকে ট্রাকে গুদামে ধান আনে না।

অভিযোগ রয়েছে, খাদ্য, কৃষি ও ব্যাংক কর্মকর্তাদের যোগসাজশে ধান কেনা সিন্ডিকেটের লোকজনকে কৃষক সাজিয়ে ব্যাংক হিসাব খোলেন। পরে তাদের নামেই গুদামে ধান সরবরাহ হয়। কৃষকরা উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে পিকআপ ও ভ্যানে গুদামে ধান নিয়ে এলেও শুকানো হয়নিসহ নানা অজুহাত দেখিয়ে তাদের ফিরিয়ে দেয়া হয়। এতে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি চরম কষ্ট পোহাতে হয় তাদের।

lakshmipurমঙ্গলবার দুপুরে সদর উপজেলা খাদ্যগুদামের সামনে উপজেলার চররুহিতা, চরশাহী ও ভবানীগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা কৃষকদের কৃষি কার্ড নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। কিন্তু তাদের কাছ থেকে কোনো ধান কেনা হয়নি।

কৃষক আবুল খায়ের, সিরাজুল ইসলাম ও শফিক উল্যা জানান, শুকনা ধান বিক্রি করতে তারা গুদামে এসেছেন। কিন্তু কর্মকর্তারা ধান ভেজা বলে আবার শুকিয়ে আনার জন্য বলেছেন। আবার ধান শুকিয়ে আনলেও কেনা হয়নি। তাদের দিয়ে ব্যাংক হিসাবও চালু করা হয়েছে। কৃষি কার্ডও রয়েছে। সিন্ডিকেটের দাপটে তারা অসহায়। কর্মকর্তারা পকেট ভারী করে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ধান কিনেছেন।

জানতে চাইলে সদর উপজেলা খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) রামিম পাঠান বলেন, কৃষকদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগ সঠিক নয়। সিন্ডিকেটের কাছ থেকে কোনো ধান নেয়া হয়নি। ফের বরাদ্দের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে। নতুন বরাদ্দ পেলে যেসব কৃষক ধান বিক্রি করতে পারেননি, তাদের থেকে কেনা হবে।