বৃহস্পতিবার । মার্চ ২৬, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক জাতীয় ১৩ জুলাই ২০২৫, ৯:৩৮ অপরাহ্ন
শেয়ার

প্রধান বিচারপতি নিয়োগের পদ্ধতি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্য


প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রে আপিল বিভাগের কর্মে জ্যেষ্ঠ বিচারককে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য হয়েছে। তবে কোনো দল তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে কর্মে জ্যেষ্ঠ দুই বিচারকের মধ্যে থেকে একজনকে নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়ে জয়ী হলে, তারা সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নিতে পারবে—এ বিধান যুক্ত করার বিষয়েও একমত হয়েছে দলগুলো।

রোববার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর দ্বিতীয় ধাপের সংলাপের ১২তম দিনে দুপুরের বিরতির পর এই ঐকমত্যে পৌঁছানো হয়।

কমিশনের প্রস্তাবে বলা হয়, সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদ সংশোধন করে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা সীমিত করে দেওয়া হবে। এখন থেকে রাষ্ট্রপতি আপিল বিভাগের বিচারকদের মধ্য থেকে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেবেন, তবে কর্মে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে।

প্রসঙ্গত, এদিন সকালে জরুরি অবস্থার বিধান নিয়ে আলোচনা শেষে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ ইস্যুতে আলোচনায় অংশ নেয় দলগুলো। জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ কয়েকটি দল আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠতম বিচারককে প্রধান বিচারপতি নিয়োগের পক্ষে মত দেয়। অন্যদিকে বিএনপিসহ ছয়টি দল প্রস্তাব করে—জ্যেষ্ঠতম দুই বিচারকের মধ্য থেকে একজনকে নিয়োগের সুযোগ রাখা উচিত।

তবে দুপুরের বিরতির আগে এ বিষয়ে কোনো ঐকমত্যে পৌঁছানো যায়নি। এরপর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুতে আলোচনা শুরু হয়।

বিরতির পর ফের যখন প্রধান বিচারপতি নিয়োগের আলোচনায় ফেরা হয়, তখন কমিশনের পক্ষ থেকে সমঝোতার একটি সূত্র উপস্থাপন করা হয়—জ্যেষ্ঠতম বিচারককেই মূলত নিয়োগ দেওয়া হবে। তবে কোনো রাজনৈতিক দল নির্বাচনী ইশতেহারে জ্যেষ্ঠ দুইজনের মধ্য থেকে একজনকে বেছে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে জনগণের রায় পায়, তাহলে তারা সে সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে পারবে।

এই প্রস্তাবে একমত জানিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “জ্যেষ্ঠতম বিচারককে নিয়োগের বিষয়টি আমরা সমর্থন করি। তবে বিএনপি একটি নোট অব ডিসেন্ট রাখছে—আমাদের ইশতেহারে থাকবে, জ্যেষ্ঠ দুইজনের মধ্যে একজনকে নিয়োগের সুযোগ থাকবে।”

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ বলেন, “আমাদের অবস্থান হলো—আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠতম বিচারকই হবেন পরবর্তী প্রধান বিচারপতি। তবে কোনো দল যদি ইশতেহারে বিকল্প প্রস্তাব দেয় এবং জনগণ তা সমর্থন করে, তাহলে আমাদের আপত্তি থাকবে না।”

আলোচনা শেষে কমিশনের পক্ষ থেকে এক আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় জানানো হয়, আপিল বিভাগের কর্মে জ্যেষ্ঠ বিচারকের বিরুদ্ধে যদি সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোনো অসদাচরণ বা অযোগ্যতার তদন্ত চলমান না থাকে, তাহলে রাষ্ট্রপতি তাকে প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেবেন।