রবিবার । মার্চ ২২, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক রাজনীতি ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ৮:৪৪ পূর্বাহ্ন
শেয়ার

জামায়াতের সঙ্গে জোট করতে এনসিপির ১০০ নেতার সমর্থন


NCP logo

ফাইল ছবি

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও জামায়াতে ইসলামীর সম্ভাব্য জোট নিয়ে দলটির ভেতরে ভিন্নমত প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। জামায়াতের সঙ্গে জোটের বিরোধিতা করে ৩০ জন কেন্দ্রীয় নেতা দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে চিঠি দেওয়ার পর এবার জোটের পক্ষে সমর্থন জানিয়ে ১০০ জন কেন্দ্রীয় নেতা আলাদা চিঠি দিয়েছেন। শনিবার রাতে এ চিঠি দেওয়া হয়।

এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আরিফুর রহমান তুহিন চিঠির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, রাত ১১টা পর্যন্ত ১০০ জন নেতা এতে স্বাক্ষর করেছেন।

সমর্থনসূচক চিঠিতে বলা হয়, দলের আদর্শ, লক্ষ্য ও ভবিষ্যৎ কৌশলগত অবস্থান সমুন্নত রাখার স্বার্থে কেন্দ্রীয় পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতারা মতামত তুলে ধরেছেন। আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনর্গঠন, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারকে টেকসই করা এবং জনমুখী ও দায়বদ্ধ রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় সময়োপযোগী ও কৌশলগত রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ জরুরি বলে তারা মনে করেন।

চিঠিতে আরও বলা হয়, দলীয় ও জাতীয় স্বার্থ এবং গণতান্ত্রিক রূপান্তরের বৃহত্তর লক্ষ্য সামনে রেখে এনসিপি যদি কোনো রাজনৈতিক দল বা জোটের সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতা কিংবা জোট গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়, সে ক্ষেত্রে তাদের পূর্ণ সমর্থন ও সম্মতি রয়েছে। একই সঙ্গে নির্বাহী কাউন্সিলের সুপারিশের ভিত্তিতে যেকোনো জোট বা নির্বাচনী সমঝোতায় দলীয় আহ্বায়ক ও সদস্যসচিবের সিদ্ধান্তের প্রতি আস্থা ও সমর্থনের কথাও জানানো হয়।

নেতারা আশা প্রকাশ করেন, আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের দূরদর্শী নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞার মাধ্যমে এনসিপি সময়োপযোগী, গ্রহণযোগ্য ও ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্তে পৌঁছাবে, যা দলকে সাংগঠনিকভাবে আরও শক্তিশালী করবে এবং জনগণের আস্থা বাড়াবে।

চিঠিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, ড. আতিক মুজাহিদ, জাভেদ রাসীন, যুগ্ম সদস্যসচিব আলাউদ্দিন মোহাম্মদসহ আরও অনেকে।

এর আগে শনিবার সন্ধ্যায় দলীয় হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে পাঠানো এক চিঠিতে এনসিপির ৩০ জন কেন্দ্রীয় নেতা জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোটের বিরোধিতা করেন। ওই চিঠিতে বলা হয়, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর জামায়াত ও শিবির বিভাজনমূলক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য দলে গুপ্তচরবৃত্তি, এনসিপির ওপর বিভিন্ন অপকর্মের দায় চাপানোর অপচেষ্টা এবং ছাত্র সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ (বাগছাস) ও পরবর্তীতে ছাত্রশক্তি বিষয়ে মিথ্যাচার ও অপপ্রচারে যুক্ত থাকার অভিযোগ তোলা হয়।

বিরোধী চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক ইতিহাস- বিশেষ করে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীনতাবিরোধী ভূমিকা ও গণহত্যায় সহযোগিতার অভিযোগ -বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক চেতনা এবং এনসিপির মূল্যবোধের সঙ্গে মৌলিকভাবে সাংঘর্ষিক। তাই জামায়াতের সঙ্গে কোনো ধরনের জোট এনসিপির নৈতিক অবস্থানকে দুর্বল করবে বলে তারা মত দেন।

এদিকে, জামায়াতের সঙ্গে আসন বণ্টন নিয়ে আলোচনা চলার মধ্যেই শনিবার এনসিপি থেকে পদত্যাগ করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানান দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারা। একই সময়ে দলের কয়েকজন নারী নেতা জামায়াতের সঙ্গে জোটের বিরোধিতা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট দেন, যা দলীয় অস্বস্তিকে আরও স্পষ্ট করেছে।