মঙ্গলবার । জুন ২, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক দেশজুড়ে ২ জুন ২০২৬, ১০:৪৫ অপরাহ্ন
শেয়ার

প্রবাস থেকে ফেরার পথে মা-ভাই-বোনকে নিয়ে না ফেরার দেশে আরিফ


arif

ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ প্রবাস জীবনের ক্লান্তি শেষে বুকভরা স্বপ্ন নিয়ে দেশে ফিরেছিলেন মালয়েশিয়া প্রবাসী আরিফ (২৫)। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে সেই ফেরার আনন্দ মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে রূপ নিলো এক সুগভীর বিষাদে। বিমানবন্দর থেকে প্রবাসফেরত ছেলেকে নিয়ে আনন্দিত মনে বাড়ি ফেরার পথে ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকের পেছনে প্রাইভেট কারের নিয়ন্ত্রণহীন ধাক্কায় মা ও ভাই-বোনসহ চিরতরে না-ফেরার দেশে চলে গেলেন আরিফ।

আজ মঙ্গলবার (২ জুন) ভোরে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার মালিগ্রাম নামক স্থানে এই ভয়াবহ ও হৃদয়বিদারক সড়ক দুর্ঘটনাটি ঘটে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় একই পরিবারের চার সদস্য এবং প্রাইভেট কারের চালকসহ মোট পাঁচজন নিহত হয়েছেন।

নিহতরা হলেন—যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের শহিদুল ইসলামের মালয়েশিয়া প্রবাসী ছেলে আরিফ (২৫), তার ছোট ভাই রাকিব (১৮), বোন আয়েশা (২৮) এবং মা নুরজাহান বেগম (৫০)। এ ছাড়া নিহত অন্যজন হলেন প্রাইভেট কারের চালক, যিনি যশোরের মণিরামপুর উপজেলার গৌরীপুর গ্রামের বাসিন্দা জাহিদ (৩২)। দুর্ঘটনার পর নিহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে না পারলেও আজ দুপুরে পুলিশ ও স্বজনদের সহায়তায় তাদের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নিহত আরিফ দীর্ঘদিন ধরে মালয়েশিয়ায় কর্মরত ছিলেন। গত সোমবার রাতে তিনি সফলভাবে দেশে ফিরলে তাকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রিসিভ করে যশোর নিয়ে আসার জন্য তার মা নুরজাহান বেগম, দুই ভাই এবং বোন মিলে যশোর থেকে একটি প্রাইভেট কার ভাড়া করে ঢাকায় যান।

প্রবাসফেরত ছেলেকে জড়িয়ে ধরে বাড়ি ফেরার পথেই ওত পেতে থাকা এই মরণফাঁদে তিন সন্তানসহ মা নুরজাহান বেগম এবং চালক ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। এ ঘটনায় নিহত আয়েশার দুই সন্তান—তিন বছরের শিশু তাসফিয়া ও সাত বছরের শিশু হোসাইন গুরুতর আহত অবস্থায় বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে হাইওয়ে পুলিশ জানায়, আজ ভোরবেলা ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের মালিগ্রাম এলাকায় একটি ট্রাক দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় প্রবাসীদের বহনকারী দ্রুতগামী প্রাইভেট কারটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ওই ট্রাকের পেছনে প্রচণ্ড শক্তিতে ধাক্কা দেয়।

এতে প্রাইভেট কারটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই প্রবাসী আরিফ, তার মা নুরজাহান, বোন আয়েশা এবং চালক জাহিদ মারা যান। পরবর্তীতে স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ গুরুতর আহত অবস্থায় ছোট ভাই রাকিবকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনিও মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

নিহত আয়েশার স্বামী ইলিয়াস হোসেন এবং চালক জাহিদের ভাই মাহবুবুর রহমান অত্যন্ত শোকার্ত কণ্ঠে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, প্রবাসীকে নিয়ে আনন্দ উৎসবের পরিবর্তে এখন পুরো পরিবারে লাশের মিছিল ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

শিবচর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহতদের লাশ ইতোমধ্যেই স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার ঘটনায় শিবচর হাইওয়ে থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।