মঙ্গলবার । জুন ২, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক রাজধানী ২ জুন ২০২৬, ১:০৩ অপরাহ্ন
শেয়ার

প্রতিষ্ঠিত সন্তানরা খোঁজ না রাখায় বদ্ধ ঘরে মায়ের মরদেহে পচন


ma

সমাজে প্রতিষ্ঠিত তিন ছেলে আর এক মেয়ে। একজন সরকারের যুগ্ম সচিব, একজন বুয়েটের শিক্ষক, আরেকজন সুদূর কানাডাপ্রবাসী। এমনকি জামাতাও ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। অথচ এই ঝলমলে সফলতার আড়ালে লুকিয়ে ছিল এক বৃদ্ধা মায়ের চরম একাকীত্ব, অবহেলা আর করুণ মৃত্যুর গল্প। রাজধানীর মিরপুর-১১ এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে নুরজাহান বেগম নামে ৭৫ বছর বয়সী এক মায়ের পচাগলা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

প্রাথমিক অনুসন্ধানের পর পুলিশের ধারণা, অন্তত সাত থেকে আট দিন আগে মারা যান এই বৃদ্ধা। রোববার (১ জুন) রাতে ঘরের ভেতর থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াতে থাকলে জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এ কল দেওয়া হয়। পরে পল্লবী থানা পুলিশ গিয়ে মিরপুরের ৬ নম্বর সেকশনের সি ব্লকের ওই ফ্ল্যাটের একটি কক্ষ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে।

পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসান বাসির ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে বলেন, নুরজাহান বেগম মিরপুরে তাঁর মেয়ের বাসাতেই থাকতেন, তবে তাঁকে রাখা হয়েছিল একটি আলাদা কক্ষে। গত কয়েকদিন ধরে মায়ের ঘর থেকে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে মেয়ে একজন নার্সকে ডেকে আনেন। ওই নার্স ঘরে ঢুকে বৃদ্ধাকে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন এবং পরে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।

পুলিশ ঘরের ভেতরকার যে দৃশ্য দেখেছে, তা এক বুক হাহাকার তৈরি করার মতো। দীর্ঘদিন অবহেলায় পড়ে থাকায় মরদেহটিতে পচন ধরে গিয়েছিল। ঘরটি ছিল অত্যন্ত অপরিচ্ছন্ন, অগোছালো এবং আবর্জনায় ভরা। ঘটনাস্থলের এমন দৃশ্য দেখে স্পষ্ট বোঝা যায়, দীর্ঘদিন ধরে তিনি চরম অবহেলা ও ন্যূনতম পরিচর্যার অভাবে ভুগছিলেন।

সবচেয়ে মর্মান্তিক বিষয় হলো, এই মায়ের মৃত্যুর সময় বা কারণ সম্পর্কে পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে কোনো সন্তোষজনক বা স্পষ্ট তথ্য পায়নি পুলিশ। একজন মায়ের এমন করুণ পরিণতি কেন হলো, তা জানতে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় পল্লবী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে এবং পুলিশ পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এলেই মৃত্যুর আসল কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।