মঙ্গলবার । জুন ২, ২০২৬
প্রবাস ডেস্ক প্রবাস ২ জুন ২০২৬, ৯:৪৮ অপরাহ্ন
শেয়ার

নেপালে অনলাইন প্রতারণার অভিযোগে ১৫ বাংলাদেশি গ্রেপ্তার


arrested

ফইল হচবি

নেপালে অবৈধ অনলাইন স্ক্যাম বা প্রতারণা চক্রের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৫ জন বাংলাদেশিসহ মোট ১৯ জন বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ১৫ জন বাংলাদেশি এবং চারজন ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন।

গত শুক্রবার নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর প্রধান পর্যটন এলাকা থামেল থেকে নেপাল পুলিশের কাঠমান্ডু ভ্যালি ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন অফিস বিশেষ অভিযান চালিয়ে এই চক্রটিকে গ্রেপ্তার করে।

বিবিসি নেপালি সার্ভিসের সংবাদদাতা অশোক দাহালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কাঠমান্ডু ভ্যালি ক্রাইম ইনভেস্টিগেশনের কর্মকর্তারা জানান, পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, গ্রেপ্তারকৃত এই ব্যক্তিরা মূলত একজন চীনা নাগরিকের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত একটি অবৈধ ‘স্ক্যাম সেন্টারে’ কর্মরত ছিলেন।

ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন অফিসের মুখপাত্র ও পুলিশ সুপার রামেশ্বর কার্কি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এই চক্রের মূল হোতা ও হোস্টিং অপারেটর ওই চীনা নাগরিক বর্তমানে পলাতক রয়েছেন এবং পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারের জন্য সম্ভাব্য সব জায়গায় সন্ধান চালাচ্ছে।

পুলিশের বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া বাংলাদেশি নাগরিকদের বেশিরভাগই এর আগে কম্বোডিয়ায় একই ধরনের সাইবার অপরাধ চক্রে কাজ করেছেন। তারা পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন যে, কম্বোডিয়ায় অবস্থানকালে পরিচয় হওয়া চীনা অপারেটরদের প্রলোভনে পড়েই তারা পরবর্তীতে নেপালে এসে এই অপরাধের সাথে যুক্ত হন।

পুলিশ সুপার কার্কি চক্রটির অপরাধের ধরন সম্পর্কে জানান, এই চক্রটি মূলত বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে নারীদের আপত্তিকর বা সংবেদনশীল ছবি পাঠিয়ে ভুক্তভোগীদের ব্ল্যাকমেইল করতো এবং পরবর্তীতে বড় অঙ্কের অর্থ আদায় করতো।

তদন্তে আরও একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে যে, এই চক্রটি স্থানীয় নেপালি নাগরিকদের টার্গেট করতো না; বরং তাদের মূল টার্গেট ছিল বাংলাদেশ এবং ভারতের ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা। এই জঘন্য সাইবার অপরাধে জড়িত থাকার অপরাধে গ্রেপ্তারকৃত ১৯ জনকেই পরবর্তী আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নেপালের ইমিগ্রেশন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং পুলিশ ইঙ্গিত দিয়েছে যে তাদের দ্রুতই ডিপোর্ট বা নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হতে পারে।

জানা গেছে, এই বিশাল স্ক্যাম সেন্টারটি পরিচালনার জন্য পলাতক চীনা নাগরিক কাঠমান্ডুর থামেল এলাকার একটি আস্ত হোটেল ভাড়া নিয়েছিলেন। হোটেলের মালিক প্রতি মাসে সাত লাখ নেপালি রুপি ভাড়ার বিনিময়ে ভবনটি লিজ দিয়েছিলেন। অভিযান চলাকালীন সময়ে পুলিশ ওই হোটেল থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত বিপুল সংখ্যক কম্পিউটার, ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম জব্দ করেছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।