মঙ্গলবার । মে ২৬, ২০২৬
প্রবাস ডেস্ক প্রবাস ২৬ মে ২০২৬, ১০:২২ পূর্বাহ্ন
শেয়ার

ইরাকে সড়ক দুর্ঘটনায় জামালপুরের দুই যুবক নিহত


bajlur-monohor

ছবি: সংগৃহীত

ইরাকে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন দুই বাংলাদেশি যুবক। সোমবার (২৫ মে) বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টার দিকে ইরাকের কুর্দিস্তান প্রদেশে রাস্তা পারাপারের সময় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন—জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার চরপাকেরদহ ইউনিয়নের দক্ষিণ কোয়ালীকান্দি গ্রামের মৃত আলাউদ্দিন মাস্টারের ছেলে বজলুর রশীদ (৩৮) এবং একই উপজেলার কড়ইচড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ ঘুঘুমারি এলাকার মৃত খলিলুর রহমানের ছেলে মনোহার আলী (৩৬)। নিহত মনোহার আলীর ভায়রা ভাই মিলন সর্দার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, পরিবারের সচ্ছলতা ফিরাতে চার বছর আগে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে ইরাকে পাড়ি জমিয়েছিলেন মনোহার আলী। আর বজলুর রশীদ সেখানে যান প্রায় দেড় বছর আগে। কুর্দিস্তানে একটি কনফেকশনারি দোকানে কাজ করতেন তাঁরা। প্রতিদিনের মতো কাজ শেষে ভোরে বাসায় ফেরার পথে রাস্তা পার হওয়ার সময় একটি দ্রুতগামী প্রাইভেটকার তাঁদের চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই দুইজনের মৃত্যু হয়। পরে স্থানীয় পুলিশ লাশ উদ্ধার করে হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

এদিকে দুই যুবকের মৃত্যুর খবর জামালপুরে তাঁদের গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে পরিবার ও স্বজনদের মাঝে শুরু হয় বুকফাটা আর্তনাদ। দুই পরিবারেই এখন চলছে শোকের মাতম। নিহত দুই যুবকেরই স্ত্রী ও দুটি করে ছোট সন্তান রয়েছে।

নিহত মনোহার আলীর স্ত্রী সোমা আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার স্বামী ঋণ করে ইরাকে গিয়েছিল। সেখানে সে খুব একটা ভালো অবস্থায় ছিল না। এর মধ্যেই এই খবর এলো। এখন আমরা কীভাবে চলব? সন্তানদের কে দেখবে? সরকারের কাছে দাবি, যেন দ্রুত আমার স্বামীর লাশ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।”

একই দাবি জানিয়ে বজলুর রশীদের বড় ভাই সাফিউল ইসলাম জুয়েলও ভাইয়ের লাশ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমন চৌধুরী বলেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সাহায্যে ইরাকে সড়ক দুর্ঘটনায় আমাদের দুইজন রেমিট্যান্স যোদ্ধা নিহতের বিষয়টি জেনেছি। লাশ দেশে ফেরত আনার ব্যাপারে প্রাথমিকভাবে পরিবারের প্রতি আমার বার্তা—তাঁরা যেন দ্রুত বাংলাদেশ দূতাবাসে যোগাযোগ করেন। আমরাও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করব, যেন লাশ দেশে আনার ব্যাপারে দূতাবাসকে দ্রুত চিঠি দেওয়া হয়।”