সোমবার । মে ২৫, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ২৫ মে ২০২৬, ৯:৫২ অপরাহ্ন
শেয়ার

রয়টার্সের প্রতিবেদন

হোয়াইট হাউসের চাপে পদ ছাড়তে বাধ্য হলেন তুলসী গ্যাবার্ড


Tulsi Gabbard

তুলসী গ্যাবার্ড। সংগৃহীত ছবি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত তুলসী গ্যাবার্ড অবশেষে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালকের (ডিএনআই) পদ ছাড়ছেন। আগামী ৩০ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব ছাড়বেন বলে তিনি জানিয়েছেন। যদিও স্বামীর ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার কারণে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন গ্যাবার্ড, তবে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি—হোয়াইট হাউসের রাজনৈতিক চাপই ছিল তার বিদায়ের মূল কারণ।

গত ২২ মে ট্রাম্পের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন তুলসী গ্যাবার্ড। দীর্ঘদিন ধরে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ ও অনুগত হিসেবে পরিচিত এই সাবেক কংগ্রেস সদস্য বিভিন্ন বিতর্কিত ইস্যুতেও প্রেসিডেন্টকে প্রকাশ্যে সমর্থন দিয়ে এসেছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত ইরান ইস্যুতে মতপার্থক্য তার সঙ্গে হোয়াইট হাউসের দূরত্ব বাড়িয়ে দেয়।

বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থানের সঙ্গে গ্যাবার্ডের মতবিরোধ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ট্রাম্প চাইছিলেন, তিনি প্রকাশ্যে বলুন যে ইরান দ্রুত পারমাণবিক বোমা তৈরির সক্ষমতা অর্জন করছে। কিন্তু মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মূল্যায়নের ভিত্তিতে গ্যাবার্ড বারবার বলেন, ইরান এখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সিদ্ধান্ত নেয়নি।

২০২৫ সালের মার্চে কংগ্রেসে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে তুলসী গ্যাবার্ড বলেন, মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী ইরান বর্তমানে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে না। তার এই বক্তব্যে প্রকাশ্যে অসন্তোষ জানান ট্রাম্প। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “সে কী বলেছে, তাতে আমার কিছু যায় আসে না। আমার বিশ্বাস, তারা খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল।”

এরপর থেকেই জাতীয় নিরাপত্তা–সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ও গোপন ব্রিফিং থেকে ধীরে ধীরে দূরে সরিয়ে রাখা হয় গ্যাবার্ডকে। ইরান ইস্যুতে হোয়াইট হাউসের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকেও তাকে ডাকা হয়নি বলে জানা যায়।

বিদেশে মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের সমালোচক হিসেবে তুলসী গ্যাবার্ড বরাবরই পরিচিত ছিলেন। ইরাক যুদ্ধসহ বিভিন্ন দেশে সরকার পরিবর্তনের মার্কিন নীতির বিরোধিতা করেছিলেন তিনি। প্রশাসনের কট্টর অংশ মনে করত, তার এই অবস্থান তাকে পুরোপুরি নির্ভরযোগ্য করে তুলছে না।

একই সময়ে তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও ন্যাশনাল কাউন্টার টেররিজম সেন্টারের পরিচালক জো কেন্টও পদত্যাগ করেন। ইরান যুদ্ধের বিরোধিতা করে দেওয়া পদত্যাগপত্রে তিনি জানান, বিবেকের দায় থেকে তিনি এই যুদ্ধকে সমর্থন করতে পারেন না।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক তৎপরতা বাড়তে থাকায় তুলসী গ্যাবার্ড এক ধরনের অস্বস্তিকর প্রতীকে পরিণত হয়েছিলেন। কারণ, তার অবস্থান ট্রাম্পের আগের যুদ্ধবিরোধী রাজনৈতিক বক্তব্যের সঙ্গে মিল থাকলেও বর্তমান প্রশাসনিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়ে পড়েছিল।

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) ও মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তারাও বিভিন্ন সময়ে জানিয়েছিলেন, ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বাড়ালেও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে—এমন প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন ধারাবাহিকভাবে দাবি করে আসছিল, ইরান খুব দ্রুত পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জন করছে।

ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পের প্রতি দীর্ঘদিনের আনুগত্যও তুলসী গ্যাবার্ডকে রক্ষা করতে পারেনি। কারণ, ট্রাম্প প্রশাসনে টিকে থাকতে শুধু আনুগত্য নয়, প্রেসিডেন্টের অবস্থানের সঙ্গে নিঃশর্ত একমত থাকাও জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স