সোমবার । মে ২৫, ২০২৬
প্রবাস ডেস্ক প্রবাস ২৫ মে ২০২৬, ১০:৩৬ অপরাহ্ন
শেয়ার

সৌদি আরবে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে প্রাণ গেল প্রবাসী সুজনের


sujon

ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরবে কর্মস্থলে কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে সুজন মিয়া (৩২) নামে এক বাংলাদেশি রেমিট্যান্স যোদ্ধার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। তিনি ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার ভরাডোবা ক্লাবের বাজার এলাকার বাসিন্দা। তাঁর এই আকস্মিক মৃত্যুর খবরে পরিবার ও এলাকাজুড়ে এখন শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, পরিবারের সচ্ছলতা ও জীবিকার তাগিদে দীর্ঘ ১৮ বছর আগে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন সুজন মিয়া। সেখানে তিনি দীর্ঘদিন ধরে কঠোর পরিশ্রম করে শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি কর্মস্থলে কাজ করার সময় অসাবধানতাবশত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তিনি মারা যান। দূর প্রবাসে সুজনের মৃত্যুর খবর গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে পরিবারের সদস্যদের মাঝে শুরু হয় মাতম, কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনরা।

নিহতের স্বজনরা জানান, বর্তমানে সুজন মিয়ার মরদেহ সৌদি আরবের একটি হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। প্রিয়জনের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে শেষবারের মতো মুখ দেখার সুযোগ করে দিতে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ ও সহযোগিতা কামনা করেছেন তাঁরা। তবে মরদেহ দেশে আনার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরি, দূতাবাসের অনুমোদন ও অন্যান্য প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে গিয়ে তাঁরা চরম ভোগান্তি ও দুশ্চিন্তার মধ্যে পড়েছেন। দ্রুততম সময়ের মধ্যে সব প্রক্রিয়া শেষ করতে তাঁরা প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং রিয়াদের বাংলাদেশ দূতাবাসের নিবিড় সহযোগিতা চেয়েছেন।

পরিবারের সদস্যরা আরও জানান, সুজন মিয়া ছিলেন তাঁদের পরিবারের একমাত্র প্রধান উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তাঁর আকস্মিক প্রয়াণে পুরো পরিবারটি এখন চরম অসহায় ও মানবেতর পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। সরকারি কিংবা ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের আর্থিক সহায়তা পেলে দ্রুত মরদেহ দেশে এনে ধর্মীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন করা সম্ভব হতো বলে জানান তাঁরা।

সাধারণত বিদেশে কোনো বাংলাদেশি শ্রমিক মারা গেলে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে দীর্ঘ আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। এ ক্ষেত্রে মৃত্যু সনদ (ডেথ সার্টিফিকেট), দূতাবাসের ছাড়পত্রসহ নানা ধরনের দাপ্তরিক জটিলতায় পড়তে হয় সাধারণ পরিবারগুলোকে।