
পোপ লিও চতুর্দশ
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিকে ‘নিরস্ত্র’ করার আহ্বান জানিয়েছেন পোপ লিও চতুর্দশ। তাঁর সতর্কবার্তা, এআইয়ের দ্রুত বিস্তার নতুন ধরনের দাসত্বের জন্ম দিতে পারে এবং এটি আধিপত্য, বৈষম্য ও মৃত্যুর হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে।
সোমবার (২৫ মে) ভ্যাটিকানে প্রকাশিত তাঁর প্রথম এনসাইক্লিক্যাল বা আনুষ্ঠানিক ধর্মীয় নীতিপত্র ‘ম্যাগনিফিসেন্ট হিউম্যানিটি’ তে পোপ এ মন্তব্য করেন। প্রায় ৪৩ হাজার শব্দের এই দলিল ক্যাথলিক চার্চের ১৪০ কোটিরও বেশি অনুসারীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা হিসেবে বিবেচিত হয়।
পোপ লিও বলেন, বর্তমানে আরও শক্তিশালী অ্যালগরিদম ও বিশাল ডেটাসেট তৈরির প্রতিযোগিতা চলছে, যার পেছনে রয়েছে ভূরাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এআই সংক্রান্ত তথ্য ও ডেটার মালিকানা শুধু বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হাতে থাকা উচিত নয়।
তিনি নীতিনির্ধারকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা করতে হবে, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং এআই কোম্পানিগুলোর মধ্যে অস্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতা কমাতে হবে।
পোপের ভাষায়, ‘সবকিছু যখন দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে, তখন এমন সক্রিয় রাজনৈতিক ভূমিকা প্রয়োজন যা প্রয়োজনে গতি কমাতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, ‘শক্তিশালী আইনগত কাঠামো, স্বাধীন তদারকি ব্যবস্থা, সচেতন ব্যবহারকারী এবং দায়িত্বশীল রাজনৈতিক নেতৃত্ব ছাড়া এআইকে সঠিক পথে পরিচালনা করা সম্ভব নয়।’
এআই সম্পর্কে তাঁর সবচেয়ে কঠোর মন্তব্য ছিল, ‘এআইকে এখন নিরস্ত্র করা প্রয়োজন। এমন সব চিন্তাধারা থেকে এটিকে মুক্ত করতে হবে, যা এটিকে আধিপত্য, বঞ্চনা ও মৃত্যুর হাতিয়ারে পরিণত করে। পারমাণবিক শক্তির মতোই এআইকেও সবার কল্যাণে ব্যবহার করতে হবে।’
এনসাইক্লিক্যাল উপস্থাপনের সময় পোপের সঙ্গে ছিলেন বিভিন্ন এআই বিশেষজ্ঞ, তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এনথ্রপিকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ক্রিস্টোফার ওলাহ।
ওলাহ বলেন, এআই কোম্পানিগুলো এমন কিছু ব্যবসায়িক চাপ ও সীমাবদ্ধতার মধ্যে কাজ করে, যা অনেক সময় সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তাই ক্যাথলিক চার্চের মতো প্রতিষ্ঠানের হস্তক্ষেপ প্রযুক্তির ভবিষ্যৎকে আরও ইতিবাচক পথে নিতে সাহায্য করতে পারে।
তিনি তিনটি বিষয়কে জরুরি বলে উল্লেখ করেন—এআইয়ের কারণে ব্যাপক কর্মসংস্থান সংকটের আশঙ্কা, প্রযুক্তির সুফল বিশ্বজুড়ে সমানভাবে পৌঁছে দেওয়া এবং ক্রমেই জটিল হয়ে ওঠা এআই ব্যবস্থার কার্যক্রম বোঝার চ্যালেঞ্জ।
এদিকে পোপ লিও এআই নিয়ন্ত্রিত অস্ত্র ব্যবস্থার বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেন, মানুষের জীবন-মৃত্যুর সিদ্ধান্ত কোনো প্রযুক্তি বা অ্যালগরিদমের হাতে তুলে দেওয়া নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।
এনসাইক্লিক্যালে তিনি যুদ্ধসংক্রান্ত প্রচলিত ‘ন্যায্য যুদ্ধ’ তত্ত্বকেও প্রশ্নবিদ্ধ করেন। তাঁর মতে, আধুনিক যুগে এই ধারণা অনেকাংশেই অচল হয়ে গেছে।
পোপ স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘কোনো অ্যালগরিদম যুদ্ধকে নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য করে তুলতে পারে না।’
বিশ্লেষকদের মতে, এআই প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির প্রেক্ষাপটে পোপের এই বার্তা বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি কোম্পানি, সরকার ও নীতিনির্ধারকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কসংকেত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।











































