
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। ফাইল ছবি
তেহরান: লেবাননের ‘প্রতিরোধ ও মুক্তি দিবস’ উপলক্ষে দেশটির সরকার, জনগণ এবং হিজবুল্লাহর প্রতি শুভেচ্ছা ও সংহতি প্রকাশ করেছে ইরান। একই সঙ্গে লেবাননের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় নিজেদের অব্যাহত সমর্থনের কথাও পুনর্ব্যক্ত করেছে তেহরান।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি লেবাননের পার্লামেন্ট স্পিকার নাবিহ বেরি এবং হিজবুল্লাহ প্রধান নাঈম কাসেম-এর কাছে পাঠানো পৃথক বার্তায়দেশটির এ অবস্থান তুলে ধরেন।
বার্তায় তিনি ২০০০ সালে দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের ঘটনাকে দেশটির ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি তিনি বলেন, যেকোনো ধরনের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লেবাননের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষার প্রশ্নে ইরান সবসময় দেশটির পাশে থাকবে।
আরাঘচির এই বার্তা এমন এক সময়ে এসেছে, যখন লেবাননকে ঘিরে আঞ্চলিক উত্তেজনা আবারও আলোচনায় রয়েছে। সম্প্রতি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও হিজবুল্লাহর সমালোচনা করে সংগঠনটির রাজনৈতিক অবস্থানের বিরোধিতা করার জন্য লেবাননের জনগণের প্রতি আহ্বান জানান। তার বক্তব্যে লেবাননের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
এদিকে চলমান সংঘাতের কারণে লেবাননে মানবিক সংকট আরও গভীর হয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইসরায়েলি হামলায় হাজারো মানুষ নিহত হয়েছেন এবং বিপুলসংখ্যক বাসিন্দা নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতার আলোচনা চললেও লেবানন ইস্যুর ভবিষ্যৎ এখনও স্পষ্ট নয়। যুদ্ধবিরতি বা রাজনৈতিক সমাধান সংক্রান্ত কোনো চূড়ান্ত চুক্তিতে লেবাননের পরিস্থিতি কীভাবে বিবেচিত হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
অন্যদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সম্প্রতি দাবি করেছেন যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলের নিরাপত্তা ও আত্মরক্ষার অধিকারের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
তবে ইরান বলছে, আঞ্চলিক চাপ বা রাজনৈতিক পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, লেবাননের জনগণ ও হিজবুল্লাহকে তারা একা ছেড়ে দেবে না। তেহরানের দাবি, মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা এবং সংঘাতের রাজনৈতিক সমাধান খুঁজে বের করার প্রচেষ্টায় তারা লেবাননের পাশে থাকবে।











































