
ফাইল ছবি
আদানির সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তিতে বাংলাদেশকে এখন পর্যন্ত প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার গচ্চা দিতে হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতি বছর অতিরিক্ত ৪০০ থেকে ৫০০ মিলিয়ন ডলার বেশি পরিশোধ করতে হচ্ছে বলে জানিয়েছে চুক্তি পর্যালোচনা সংক্রান্ত জাতীয় কমিটি।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) বিকেলে বিদ্যুৎ ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন তুলে ধরে এসব তথ্য জানানো হয়।
কমিটি জানায়, ভারতের গোড্ডায় নির্মিত আদানির কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে দেশে মোট বিদ্যুতের প্রায় ১০ শতাংশ সরবরাহ করা হয়। তবে শুরু থেকেই চুক্তির শর্ত, কয়লার মান ও দামের স্বচ্ছতা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের অন্যান্য উৎস থেকে কেনা বিদ্যুতের তুলনায় আদানির বিদ্যুতে প্রতি ইউনিটে ৪ থেকে ৫ সেন্ট বেশি দিতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। ২০২৫ সাল নাগাদ এই দাম বেড়ে প্রতি ইউনিট ১৪ দশমিক ৮৭ সেন্টে দাঁড়াবে।
জাতীয় কমিটির হিসাব অনুযায়ী, চুক্তির মেয়াদ ২৫ বছরে বাংলাদেশকে প্রতি বছর গড়ে ৪০০ থেকে ৫০০ মিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত পরিশোধ করতে হবে। বর্তমানে আদানিকে প্রায় ৪০ শতাংশ বাড়তি অর্থ দেয়া হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে কমিটি আরও জানায়, বিশেষ আইনের আওতায় করা এসব চুক্তিতে জাতীয় স্বার্থের চেয়ে গোষ্ঠী স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। বিশেষ বিধানের অপব্যবহার, যোগসাজশ, দুর্নীতি ও রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের ফলে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) দেউলিয়ার পথে এগোচ্ছে বলে মন্তব্য করা হয়। আদানি চুক্তির সঙ্গে সম্পৃক্ত বিদ্যুৎ খাতের অনেকের পকেটে মিলিয়ন ডলার ঢুকেছে বলেও অভিযোগ তোলে কমিটি।
চুক্তিতে দুর্নীতির তথ্য আদানি কর্তৃপক্ষকে জানানোর পাশাপাশি সিঙ্গাপুরের সালিশি আদালতে আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেয় জাতীয় কমিটি। তবে আদানি চুক্তি বাতিল বা আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অন্তর্বর্তী সরকার নয়, পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
কমিটির প্রধান বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, “বল এখন বিদ্যুৎ বিভাগের কোর্টে। মামলার বিষয়ে তাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। বর্তমান সরকারের সময় সীমিত, তাই পরবর্তী সরকার যেন এ বিষয়ে যথাযথ উদ্যোগ নেয়—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”
কমিটি সতর্ক করে জানায়, সিদ্ধান্ত নিতে বিলম্ব হলে আন্তর্জাতিক আদালতে বাংলাদেশের অবস্থান দুর্বল হতে পারে।
এদিকে আদানি পাওয়ার এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, জাতীয় কমিটির প্রতিবেদনের বিষয়ে তাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করা হয়নি এবং বাংলাদেশের কোনো কর্তৃপক্ষ তাদের মতামত নেয়নি। পাশাপাশি দ্রুত বকেয়া পরিশোধের জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের এই জাতীয় কমিটি গঠন করা হয়। তারা চলতি বছরের ২০ জানুয়ারি তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়।




































