বৃহস্পতিবার । জুন ৪, ২০২৬
ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক জাতীয় ৩ জুন ২০২৬, ১১:৫৯ অপরাহ্ন
শেয়ার

যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জেরে পাল্টা আঘাত ইরানের, কুয়েতে নিহত ১


kuwait

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা নতুন করে তীব্র আকার ধারণ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানের খার্গ দ্বীপমুখী একটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালানোর পর ইরানও পাল্টা হামলা করেছে। তারা কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির কাছে চলাচলরত বতসোয়ানার পাতাকাবাহী একটি তেলবাহী জাহাজকে থামাতে হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়। ওয়াশিংটনের দাবি, জাহাজটি একাধিক সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে ইরানের খার্গ দ্বীপের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল।

এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা বাহরাইনে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর এবং কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এছাড়া হরমুজ প্রণালির কাছে একটি জাহাজেও হামলার দাবি করেছে তেহরান। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন তাদের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে ব্যর্থ হয়েছে বা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ভূপাতিত করা হয়েছে।

সংঘাতের সবচেয়ে গুরুতর প্রভাব দেখা গেছে কুয়েতে। ইরানি হামলায় কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কুয়েতের স্বাস্থ্য ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, হামলায় একজন ভারতীয় নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং ৬০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে বিমানবন্দর কর্মী ও যাত্রীরাও রয়েছেন। যুদ্ধ শুরুর পর উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের কোনো হামলায় এটিই সবচেয়ে বেশি হতাহতের ঘটনা।

হামলার পর কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কিছু কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয় এবং বেশ কয়েকটি ফ্লাইট অন্য বিমানবন্দরে সরিয়ে নেওয়া হয়। কুয়েত সরকার এ ঘটনাকে দেশের সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে বর্ণনা করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

এদিকে কুয়েত ও বাহরাইনের ওপর হামলার জবাবে ইরানের কেশম দ্বীপে তথাকথিত আত্মরক্ষামূলক হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সেন্টকম জানিয়েছে, ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র পরিচালনার সঙ্গে জড়িত কয়েকটি সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে এ হামলা পরিচালিত হয়।

সাম্প্রতিক এই সংঘাতের ফলে বিশ্ব জ্বালানি বাজারেও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। একই সময়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ও কূটনৈতিক আলোচনার প্রচেষ্টা চললেও পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত অনিশ্চিত রয়ে গেছে।