বুধবার । জুন ৩, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ৩ জুন ২০২৬, ৬:১২ পূর্বাহ্ন
শেয়ার

বিশ্বজুড়ে আসছে তীব্র তাপপ্রবাহ, জাতিসংঘের জরুরি সতর্কতা জারি


hot-weather

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা আরও বৃদ্ধি এবং চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও)। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিশ্ববাসীকে সম্ভাব্য শক্তিশালী ‘এল নিনো’র জন্য আগাম প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়ে বিশেষ জরুরি সতর্কতা জারি করেছে সংস্থাটি।

মঙ্গলবার (২ জুন) প্রকাশিত এক বৈশ্বিক পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, চলতি বছরে মাঝারি থেকে তীব্র মাত্রার এল নিনো দেখা দিতে পারে, যা আগামী কয়েক মাসে পুরো বিশ্বের তাপমাত্রা অস্বাভাবিক হারে বাড়িয়ে তুলবে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার বিজ্ঞানীদের তথ্য অনুযায়ী, এল নিনো হলো মূলত মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের পানির একটি পর্যায়ক্রমিক উষ্ণায়ন প্রক্রিয়া, যা সাধারণত নয় থেকে বারো মাস পর্যন্ত স্থায়ী হয়ে থাকে। উষ্ণ সমুদ্রের পানি বর্তমানে এল নিনোর বিকাশকে ব্যাপকভাবে ত্বরান্বিত করছে, যার ফলে চলতি জুন থেকে আগস্ট মাসের মধ্যে বিশ্বের অধিকাংশ অঞ্চলে স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি তাপমাত্রা পরিলক্ষিত হতে পারে।

পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, এই এল নিনো পরিস্থিতি অন্তত আগামী নভেম্বর পর্যন্ত অব্যাহত থাকার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বিভিন্ন আবহাওয়া মডেল ভিন্ন ভিন্ন পূর্বাভাস দেওয়ায় এর চূড়ান্ত তীব্রতা ঠিক কতটা ভয়াবহ হবে, সে বিষয়ে এখনও কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়েছে। তারপরও সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতিের ঝুঁকি এড়াতে এখনই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রস্তুতি নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন আবহাওয়া কর্মকর্তারা।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার মহাসচিব সেলেস্তে সাউলো এই বিষয়ে সতর্ক করে বলেন, সম্ভাব্য শক্তিশালী এল নিনোর জন্য আমাদের এখনই সব ধরনের প্রস্তুতি রাখতে হবে। এটি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে খরা ও অতিবৃষ্টির পরিস্থিতিকে আরও তীব্র করবে এবং একই সঙ্গে স্থলভাগ ও সমুদ্রে মারাত্মক তাপপ্রবাহের ঝুঁকি বাড়াবে। এল নিনোর প্রভাবে বিশ্বজুড়ে সামগ্রিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির পাশাপাশি দক্ষিণ আমেরিকার দক্ষিণাঞ্চল, যুক্তরাষ্ট্রের কিছু এলাকা, আফ্রিকার হর্ন অঞ্চল এবং মধ্য এশিয়ার কিছু অংশে আকস্মিক বৃষ্টিপাত বৃদ্ধি পেতে পারে। বিপরীতে অস্ট্রেলিয়া, মধ্য আমেরিকা, ইন্দোনেশিয়া এবং দক্ষিণ এশিয়ার কিছু অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদি খরা দেখা দেওয়ার শঙ্কা রয়েছে। এ ছাড়া মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির প্রবণতাও বাড়িয়ে দিতে পারে এই জলবায়ু পরিবর্তন।

সংস্থার মহাসচিব আরও মনে করিয়ে দেন যে, ২০২৩-২৪ সালের সর্বশেষ শক্তিশালী এল নিনোটি ২০২৪ সালকে ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণ বছর হিসেবে গড়ে তুলতে প্রধান ভূমিকা রেখেছিল। তার মতে, এই অতিরিক্ত তাপমাত্রার সঙ্গে আরও কিছু বড় মানবিক ঝুঁকি জড়িয়ে রয়েছে। বিশেষ করে মশা ও উকুনজাতীয় বাহকের মাধ্যমে ছড়ানো বিভিন্ন সংক্রামক রোগের বিস্তার আশঙ্কাজনকভাবে বাড়তে পারে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক খাদ্য ও পানির সরবরাহ ব্যবস্থা সংকুচিত হওয়ার তীব্র আশঙ্কা রয়েছে, যা ইতিমধ্যে নানা সংকটে থাকা অনুন্নত জনগোষ্ঠীগুলোকে আরও বেশি চাপের মুখে ফেলবে। এদিকে চলমান ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতি যখন সাধারণ ভোক্তাদের ওপর চাপ বাড়িয়েছে, তখন এল নিনোর কারণে উৎপাদন ব্যাহত হয়ে খাদ্যপণ্যের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে আরও বেড়ে যেতে পারে বলে অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন।