
ছবি: সংগৃহীত
লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে শারমিন আক্তার মুক্তা (২০) নামে এক প্রবাসীর স্ত্রীর রহস্যজনক মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আজ বুধবার (৩ জুন) ভোর রাতে উপজেলার চরমার্টিন ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে এই ঘটনা ঘটে।
প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে ‘আত্মহত্যা’ বলে প্রচার করা হলেও, নিহতের গলায় নখের আঁচড় পাওয়া গেছে। ঘটনার পর থেকে শ্বশুরবাড়ির পুরুষ সদস্যরা আত্মগোপনে চলে যাওয়ায় এটি আসলে আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড—তা নিয়ে এলাকায় নানা ধোঁয়াশা ও গুঞ্জনের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত মুক্তা উপজেলার চরমার্টিন ইউনিয়নের হাজিপাড়া এলাকার সৌদি প্রবাসী হাসানের স্ত্রী এবং লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের চরউভতী গ্রামের বাহার মিয়ার মেয়ে। তাদের ঘরে তামান্না নামে দুই বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাড়ে ৩ বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে হাসানের সাথে মুক্তার বিয়ে হয়। শুরুতে দুই পরিবারের আপত্তি থাকলেও পরবর্তীতে তারা এই বিয়ে মেনে নেয়। বিয়ের বছরখানেক পর জীবিকার তাগিদে হাসান সৌদি আরব চলে যান। স্বামী প্রবাসে থাকার সুবাদে মুক্তার ননদের জামাই স্বপন তাকে প্রায় সময় কুপ্রস্তাব দিত এবং উত্যক্ত করত। এমনকি মুক্তা ঘুমিয়ে থাকলে গোপনে তার ছবি তুলে তা দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে আসছিল স্বপন। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার বাগবিতণ্ডা ও ঝগড়ার পর দুই পরিবারের আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যে জানাজানি হলে স্বপনকে সতর্কও করা হয়েছিল।
নিহতের শাশুড়ি রুবি বেগম জানান, গত মঙ্গলবার (২ জুন) তাদের এক আত্মীয়ের বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে তার দুই মেয়ের জামাই (যার মধ্যে অভিযুক্ত স্বপনও ছিল) বাড়িতে আসে এবং রাতে থেকে যায়। গভীর রাতে তিনি তার মেজো ছেলের চিৎকার শুনে ঘুম থেকে জেগে ওঠেন। দ্রুত রুমে গিয়ে দেখতে পান, মেয়ের জামাই স্বপন ও অন্যরা মুক্তাকে ঘরের বারান্দায় শুইয়ে দিচ্ছে। তখন কাছে গিয়ে তিনি দেখতে পান মুক্তা আর বেঁচে নেই।
এদিকে মুক্তার চাচা ফজর আলী মাঝি ও জেঠাতো ভাই নুরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, মুক্তা তাদের অত্যন্ত আদরের মেয়ে ছিল। স্বামী প্রবাসে থাকার সুযোগে ননদজামাই স্বপন তাকে কুপ্রস্তাব ও গোপন ছবি দিয়ে অনবরত ব্ল্যাকমেইল করে আসছিল। এই ব্ল্যাকমেইলের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এর আগে মুক্তার শ্বশুর নিজাম উদ্দিন লোকলজ্জার ভয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টাও করেছিলেন। তাদের দাবি—স্বপন ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন পরিকল্পিতভাবে মুক্তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে এখন আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা করছে। ঘটনার পর থেকেই মুক্তার শ্বশুর, দেবর ও অভিযুক্ত স্বপনসহ পরিবারের সকল পুরুষ সদস্য পলাতক রয়েছে।
কমলনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ফরিদুল আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। লাশের গলায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। আমরা সবদিক মাথায় রেখেই তদন্ত চালাচ্ছি। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে এবং সে অনুযায়ী পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’














































