বৃহস্পতিবার । জুন ৪, ২০২৬
ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক আন্তর্জাতিক ৪ জুন ২০২৬, ১২:০৭ অপরাহ্ন
শেয়ার

এমআই-ফাইভ এর অভিযোগ

চাকরির সাইট ব্যবহার করে ব্রিটিশ সরকারি কর্মীদের টার্গেট করছে চীনা গুপ্তচররা


job

ফাইল ছবি

ব্রিটেনের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা এমআই-ফাইভ সতর্ক করে জানিয়েছে, চীনা গুপ্তচররা চাকরি নিয়োগকারী এজেন্টের ছদ্মবেশে ব্রিটিশ সরকারি কর্মকর্তা ও সামরিক কর্মীদের কাছ থেকে গোপন তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।

বুধবার (৩ জুন) প্রকাশিত এক যৌথ সতর্কবার্তায় ‘ফাইভ আইজ’ গোয়েন্দা জোট—যার সদস্য যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও নিউজিল্যান্ড—জানায়, চীনা গোয়েন্দা অপারেটিভরা লিংকডইন, ইনডিড এবং আপওয়ার্ক-এর মতো জনপ্রিয় চাকরি খোঁজার ওয়েবসাইটে ভুয়া বিশ্লেষক (অ্যানালিস্ট) পদের বিজ্ঞাপন দিচ্ছে।

সতর্কবার্তায় বলা হয়, চাকরিপ্রার্থীদের বিভিন্নভাবে চাপ দিয়ে এমন তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত নয়। এসব তথ্য পরে চীনের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা কৌশলগত ও সামরিক সুবিধা অর্জনের জন্য ব্যবহার করতে পারে।

ফাইভ আইজের তথ্য অনুযায়ী, চীনা এজেন্টরা প্রথমে অনলাইনে ভুয়া চাকরির বিজ্ঞাপন প্রকাশ করে। এরপর আবেদনকারীদের জীবনবৃত্তান্ত (সিভি) যাচাই করে এমন ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা হয়, যাদের কাছ থেকে মূল্যবান তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

পরবর্তী ধাপে ভার্চুয়াল সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে খোঁজ নেওয়া হয় আবেদনকারীর সরকারি যোগাযোগ, সামরিক কর্মকাণ্ড বা সংবেদনশীল তথ্যের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না।

সবশেষে প্রার্থীদের চীনের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, প্রতিরক্ষা বা নিরাপত্তা বিষয়ক বিভিন্ন বিষয়ে পরীক্ষামূলক প্রতিবেদন লিখতে বলা হয়। এসব প্রতিবেদনের বিনিময়ে বিভিন্ন অনলাইন পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে একেকটি প্রতিবেদনের জন্য এক হাজার ডলার পর্যন্ত পারিশ্রমিক দেওয়া হয়।

ব্রিটেনের নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রী ড্যান জারভিস এ প্রসঙ্গে বলেছেন, সরকারি কর্মকর্তা ও সামরিক সদস্যদের অনলাইনে লক্ষ্যবস্তু বানানোর লক্ষণগুলো সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে এবং জাতীয় নিরাপত্তা যাতে অনিচ্ছাকৃতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে।

তিনি বলেন, ‘চীনের মতো বিভিন্ন রাষ্ট্রের বৈরী কর্মকাণ্ড মোকাবিলায় আমরা কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছি এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।’

গত নভেম্বরে ড্যান জারভিস জানিয়েছিলেন, চীনের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের (এমএসএস) হয়ে পরিচালিত দুটি লিংকডইন প্রোফাইল শনাক্ত করেছে এমআই-ফাইভ। এসব প্রোফাইলের নাম ছিল ‘অ্যামান্ডা কিউ’ ও ‘শার্লি শেন’।

এদিকে, সরকারি যোগাযোগ ব্যবস্থার নিরাপত্তা জোরদার করতে গত বছর ব্রিটিশ সরকার এনক্রিপ্টেড প্রযুক্তি উন্নয়নে ১৭ কোটি পাউন্ড বিনিয়োগের ঘোষণা দেয়। পাশাপাশি চীনা সাইবার হামলা মোকাবিলায় নতুন সুরক্ষা ব্যবস্থাও চালু করা হয়।

এদিকে, যুক্তরাজ্যের চীনা দূতাবাস এমআই-ফাইভ ও ফাইভ আইজের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে একে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ ও ‘বিদ্বেষপূর্ণ অপপ্রচার’ বলে অভিহিত করেছে। দূতাবাসের এক মুখপাত্র দাবি করেন, ‘ফাইভ আইজ বিশ্বের বৃহত্তম গোয়েন্দা জোট এবং তারাই বিশ্বজুড়ে গুপ্তচরবৃত্তি চালায়। শান্তিপ্রিয় দেশগুলোর জন্য প্রকৃত হুমকি তারাই।’