রবিবার । মার্চ ২২, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক জাতীয় ২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ৭:০৮ অপরাহ্ন
শেয়ার

অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিতে সশস্ত্র বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্কতার নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার


CA Army

আসন্ন গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য ভোট আয়োজন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সেনাসদরে সশস্ত্র বাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের জন্য একটি ঐতিহাসিক ও অত্যন্ত সংবেদনশীল সময়। এই সময়ে শান্তিপূর্ণ, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করতে সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

প্রধান উপদেষ্টা আশা প্রকাশ করে বলেন, জনগণের আস্থার প্রতীক হিসেবে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী অতীতের মতো এবারও পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করবে।

বক্তব্যে তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীর অবদান কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদ পরবর্তী সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

প্রফেসর ইউনূস বলেন, দীর্ঘদিন ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত জনগণ জুলাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনায় নিজেদের ভূমিকা প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছে। গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন সেই আকাঙ্ক্ষার বাস্তব প্রতিফলন। গণভোটের মাধ্যমে জনগণ ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থা সম্পর্কে মত দেবে এবং সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে সেই মত বাস্তবায়নে প্রতিনিধিত্বকারী নেতৃত্ব বেছে নেবে।

তিনি আরও বলেন, এবারের নির্বাচনে তরুণদের একটি বড় অংশ প্রথমবারের মতো ভোট দিতে যাচ্ছে। একই সঙ্গে বহু নাগরিক দীর্ঘ সময় পর ভোটাধিকার ফিরে পাচ্ছেন। এই প্রেক্ষাপটে সকল ভোটারের জন্য ভয়মুক্ত ও আনন্দমুখর পরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের একটি বড় দায়িত্ব, যেখানে সশস্ত্র বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে ভূমিকা রাখবে।

নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালনের বিষয়ে সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্বকে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, মাঠপর্যায়ে সব সিদ্ধান্ত হতে হবে আইনসম্মত, সংযত ও দায়িত্বশীল। কোনো ধরনের বিচ্যুতি যেন জনগণের আস্থাকে ক্ষুণ্ন না করে—সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, একটি অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি। প্রতিটি নাগরিক যেন কোনো ভয় বা প্রভাব ছাড়াই ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে, সে লক্ষ্যে প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা দিতে হবে।

সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে বাহিনীর সক্ষমতা অবহেলিত ছিল। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর অল্প সময়ের মধ্যেই এ অবস্থার পরিবর্তনে উদ্যোগ নিয়েছে। সশস্ত্র বাহিনীকে যুগোপযোগী ও স্বনির্ভর করে গড়ে তোলা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।

তিনি জানান, নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সামরিক অস্ত্র ও সরঞ্জাম উৎপাদনের কারখানা স্থাপনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পাশাপাশি নেদারল্যান্ডস ও মালয়েশিয়ার সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং ইতালি, জাপান ও থাইল্যান্ডসহ আরও কয়েকটি দেশের সঙ্গে অনুরূপ চুক্তি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা ও অভিযানিক দক্ষতা আরও বাড়বে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

প্রধান উপদেষ্টা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে নির্বাচিত সরকারও সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে।

সেনাসদরের হেলমেট অডিটোরিয়ামে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় পৌঁছালে প্রধান উপদেষ্টাকে স্বাগত জানান সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান, বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসান।

সভায় সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।