
ফাইল ছবি
ঢাকার বিভিন্ন আসনে ভোটার স্থানান্তরের হার নিয়ে যে বিতর্ক উঠেছে, তা নাকচ করে দিয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) বলেছে ভোটার পরিবর্তনের হার স্বাভাবিক। নিজেদের দাবির পক্ষে প্রমান হিসেবে ভোটার স্থানান্তরের পুরো তালিকা প্রকাশ করেছে ইসি।
ইসি জানায়, গণভোট ও সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে গত বছরের আগস্টে ভোটারদের ঠিকানা বা এলাকা পরিবর্তনের আবেদন নেওয়া হয়। সেই প্রক্রিয়ায় গত নভেম্বরে পর্যন্ত ঢাকা অঞ্চলে মোট ৮৬ হাজার ৮২৫ জন ভোটার এলাকা পরিবর্তন করেছেন। একই সময়ে কুমিল্লা অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি—১ লাখ ৫ হাজার ৫৪৩ জন ভোটার স্থানান্তর হয়েছেন। এছাড়া বরিশালে ৮৫ হাজার ৭২০ জন, খুলনায় ৮১ হাজার ৭২৫ জন, ময়মনসিংহে ৭৮ হাজার ৮০৫ জন, রাজশাহীতে ৭২ হাজার ৮১৫ জন, রংপুরে ৬৩ হাজার ৮৯৭ জন, ফরিদপুরে ৩৯ হাজার ৯৫ জন, চট্টগ্রামে ৩০ হাজার ৮৫ জন এবং সিলেটে ২৭ হাজার ৫৭৬ জন ভোটার এলাকা পরিবর্তন করেন।
ঢাকা জেলার ২০টি সংসদীয় আসনে মোট ৪৯ হাজার ৯৯২ জন ভোটার স্থানান্তর হয়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
ইসির দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি আসনেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোটার স্থানান্তর হয়েছে। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-১৭ আসনে স্থানান্তরিত ভোটারের সংখ্যা ৩ হাজার ৩৯ জন। জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের ঢাকা-১৫ আসনে এই সংখ্যা ৩ হাজার ৫২০ জন। জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের ঢাকা-১১ আসনে ৩ হাজার ১৪১ জন ভোটার এলাকা পরিবর্তন করেছেন। একই দলের সাবেক নেতা ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারার ঢাকা-৯ আসনে স্থানান্তর হয়েছে ২ হাজার ৬৩৪ জন ভোটার। আর ঢাকা-৮ আসনে বিএনপির মির্জা আব্বাস ও এনসিপির নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর নির্বাচনী এলাকায় ভোটার স্থানান্তরের সংখ্যা ৩ হাজার ৬৩৩ জন।
সবচেয়ে বেশি ভোটার এলাকা পরিবর্তনের ঘটনা ঘটেছে ঢাকা-১ আসনে, যেখানে ৪ হাজার ৭৩২ জন ভোটার স্থানান্তর হয়েছেন। অন্যদিকে সবচেয়ে কম স্থানান্তর হয়েছে ঢাকা-৭ আসনে—এখানে ভোটার সংখ্যা মাত্র ৬৭৬ জন।
নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, এসব স্থানান্তর পূর্বঘোষিত নিয়ম ও প্রক্রিয়ার মধ্যেই হয়েছে এবং এতে নির্বাচনী ব্যবস্থায় কোনো অস্বাভাবিকতা নেই।





































