রবিবার । মার্চ ২২, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক আন্তর্জাতিক ২২ মার্চ ২০২৬, ৪:৫৬ অপরাহ্ন
শেয়ার

ইরান যুদ্ধ: এক নজরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল হামলার ২৩তম দিন


US Israel attack on Iran

ইরান যুদ্ধ: এক নজরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল হামলার ২৩তম দিন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, তেহরান যদি দুই দিনের মধ্যে সম্পূর্ণভাবে হরমুজ প্রণালি খুলে না দেয়, তবে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ধ্বংস করে দেওয়া হবে। এদিকে ইসরায়েল তেহরানে নতুন করে হামলা চালিয়েছে, শহরের পূর্বাংশে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।

অন্যদিকে, ইরানের পাল্টা হামলা অব্যাহত রয়েছে। ইসরায়েলের একটি পারমাণবিক স্থাপনার কাছাকাছি শহরগুলোতে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রায় ১০০ জন আহত হয়েছেন।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইরানের হামলার পর দেশটি আমাদের ভবিষ্যতের লড়াইয়ে খুব কঠিন একটি সন্ধ্যা পার করেছে।

নিচে যুদ্ধের ২৩তম দিনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো তুলে ধরা হলো-

ইরান পরিস্থিতি
রবিবার ইসরায়েল তেহরানে নতুন করে হামলা চালিয়েছে, বিশেষ করে শহরের পূর্বাঞ্চলে বিস্ফোরণ হয়েছে। এর আগে দক্ষিণ ইসরায়েলে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছিল।

ট্রাম্পের হুমকির জবাবে ইরানের সামরিক বাহিনী সতর্ক করে বলেছে, তাদের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা হলে তারা মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-সম্পর্কিত সব জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে আঘাত হানবে।

ইরান দাবি করেছে, তারা তেহরানের আকাশে একটি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি ড্রোন ভূপাতিত করেছে।
ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) আরও দাবি করেছে, তারা ইসরায়েলের একটি যুদ্ধবিমান গুলি করে নামিয়েছে—যদিও ইসরায়েল এ দাবি স্বীকার করেনি।

ইরানের নাতাঞ্জ পারমাণবিক স্থাপনাতেও হামলা হয়েছে বলে দেশটির পারমাণবিক সংস্থা জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ) বলেছে, সেখানে কোনো অস্বাভাবিক তেজস্ক্রিয়তা ছড়ানোর প্রমাণ নেই।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান ব্রিকস জোটকে “স্বাধীন ভূমিকা” রাখার আহ্বান জানিয়েছেন এবং পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলোকে নিয়ে একটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল হামলায় মৃতের সংখ্যা ১,৫০০ ছাড়িয়েছে এবং আহত হয়েছেন প্রায় ২১ হাজার মানুষ।

উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা
সৌদি আরব জানিয়েছে, তারা ইরানের প্রায় ৬০টি ড্রোন প্রতিহত করেছে, যেগুলোর বেশিরভাগই দেশের জ্বালানি সমৃদ্ধ পূর্বাঞ্চল লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছিল।

রিয়াদের দিকে তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়, যার একটি প্রতিহত করা হয়েছে, বাকিগুলো জনবসতিহীন এলাকায় পড়ে।

সৌদি আরব ও কাতার ইরানের কিছু কূটনীতিককে বহিষ্কার করেছে।

বাহরাইন জানিয়েছে, তারা যুদ্ধ চলাকালে ইরানের ছোড়া ১৪৩টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ২৪২টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান
ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালি খুলে না দেয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালাবে।

তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের ক্ষেত্রে “সময়সূচির চেয়ে অনেক এগিয়ে” রয়েছে এবং এখন কোনো চুক্তি করতে আগ্রহী নয়।

মার্কিন সামরিক কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার জানিয়েছেন, তারা ইরানের উপকূলীয় একটি ভূগর্ভস্থ অস্ত্রাগারে ভারী বোমা হামলা চালিয়েছে, যার ফলে হরমুজ প্রণালিতে হুমকি দেওয়ার সক্ষমতা কমে গেছে।

ইসরায়েল পরিস্থিতি
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে প্রতিরক্ষা ভেদ করে দিমোনা ও আরাদ শহরে আঘাত হানে, এতে প্রায় ১০০ জন আহত হন।
ইসরায়েল জানিয়েছে, কোনো মৃত্যু হয়নি, যদিও ইরান দাবি করেছে ২০০ জন নিহত হয়েছে।
আইএইএ জানিয়েছে, দিমোনার পারমাণবিক গবেষণা কেন্দ্রে কোনো ক্ষতি হয়নি।
দেশজুড়ে স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছে এবং দক্ষিণাঞ্চলে ৫০ জনের বেশি জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
ইসরায়েলি বাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরান ও লেবাননে ২০০টির বেশি স্থানে হামলা চালিয়েছে।

ইরাক ও লেবানন
হিজবুল্লাহ দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে রকেট হামলা চালিয়েছে।
ইরাকভিত্তিক গোষ্ঠীগুলো জানিয়েছে, তারা গত ২৪ ঘণ্টায় যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলোতে ২১টি হামলা চালিয়েছে।
এরবিল বিমানবন্দরের কাছে ড্রোন হামলা প্রতিহত করা হয়েছে এবং বাগদাদের কাছে একটি ড্রোন বিধ্বস্ত হয়ে চারজন আহত হয়েছেন।

হরমুজ প্রণালি নিয়ে সংকট
সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি যৌথ বিবৃতিতে ইরানের বিরুদ্ধে বাণিজ্যিক জাহাজ ও অবকাঠামোতে হামলার অভিযোগ তুলেছে। তারা বলেছে, ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে এবং এ পরিস্থিতির অবসান চেয়েছে।

ডিয়েগো গার্সিয়া ঘাঁটি
যুক্তরাজ্য অভিযোগ করেছে, ইরান ভারত মহাসাগরে অবস্থিত যৌথ যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য ডিয়েগো গার্সিয়া ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে, তবে তা সফল হয়নি।

তবে ইরানের এক কর্মকর্তা এ হামলার দায় অস্বীকার করেছেন।