
ছবি: সংগৃহীত
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় প্রবল কালবৈশাখী ঝড়ে তিনটি গ্রামের বসতবাড়ি, গাছপালা ও ফসলের মাঠ লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। ঝড়ের তাণ্ডবে অসংখ্য গাছ উপড়ে পড়েছে, ঘরবাড়ি ভেঙে গেছে এবং বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছে কয়েকটি এলাকা।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকালে উপজেলার কাওরাইদ ইউনিয়নের হয়দেবপুর, জাহাঙ্গীরপুর ও ধামলই গ্রামের ওপর দিয়ে এই কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যায়। এছাড়াও ইউনিয়নের আরও কয়েকটি গ্রামে কমবেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামগুলোর প্রায় প্রতিটি বাড়িঘরের ক্ষতি হয়েছে। কোথাও বসতবাড়ির ওপর বড় বড় গাছ ভেঙে পড়েছে, আবার কোথাও সম্পূর্ণ ঘরবাড়ি ধসে গেছে। ঝড়ের তীব্রতায় পাকা বোরো ধান মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে এবং মৌসুমি ফল কাঁঠালসহ শাকসবজির খেত পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। গাছপালা ভেঙে পড়ে অনেক কৃষকের গবাদিপশুও আহত হয়েছে।
ঝড়ের কারণে বৈদ্যুতিক সঞ্চালন লাইনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বহু স্থানে মেইন লাইন ছিঁড়ে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখা গেছে। কাওরাইদ পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের এজিএম মো. আনিছুর রহমান বলেন, “বহু স্থানে মেইন লাইন ছিঁড়ে গেছে এবং গাছ পড়ে আছে। সেগুলো সরিয়ে সংযোগ স্বাভাবিক করতে কিছুটা সময় লাগবে।”
হয়দেবপুর গ্রামের বাসিন্দা নান্নু মণ্ডল জানান, হঠাৎ আসা প্রবল ঝড়ে গাছপালা ভেঙে তাঁর বসতবাড়ির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। জাহাঙ্গীরপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল বারেক বলেন, “ঝড়ের গতি এত বেশি ছিল যে নারী ও শিশুরা আতঙ্কে কান্নাকাটি শুরু করে। একটি গাছও ঠিকভাবে দাঁড়িয়ে নেই।”
শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমাইয়া সুলতানা জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরির জন্য ইতিমধ্যে মাঠকর্মীদের পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে, শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ভূঁইয়া বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নিতে এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।











































