বুধবার । মে ২৭, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক দেশজুড়ে ২৭ মে ২০২৬, ৮:৫৫ পূর্বাহ্ন
শেয়ার

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ৪০ কিমি যানজট, দুর্ভোগে ঘরমুখো যাত্রীরা


traffic-jam

ফাইল ছবি

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে শেষ মুহূর্তে ঘরমুখো মানুষের ঢলে কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক। গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাস থেকে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর পর্যন্ত প্রায় ৪০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়কে আটকে থেকে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন উত্তরবঙ্গগামী যাত্রীরা।

সরেজমিনে জানা গেছে, মঙ্গলবার (২৬ মে) সন্ধ্যার পর থেকেই মহাসড়কের চন্দ্রা ত্রিমোড়, সফিপুর, কালিয়াকৈর, গোড়াই ও মির্জাপুর অংশে যানবাহনের চাপ অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে থাকে। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই যানজট ভয়াবহ আকার ধারণ করে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, কোথাও কোথাও এক ঘণ্টায় এক কিলোমিটার পথও অতিক্রম করতে পারেনি যানবাহন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, রাজধানী ঢাকা, সাভার, আশুলিয়া ও গাজীপুর শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন পোশাক কারখানায় একযোগে ছুটি শুরু হওয়ায় লাখ লাখ শ্রমিক ও চাকরিজীবী দুপুরের পর থেকেই বাড়ির পথে রওনা দেন। একই সময়ে দূরপাল্লার বাস, কোরবানির পশুবাহী ও সাধারণ পণ্যবাহী ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, মাইক্রোবাস এবং ব্যক্তিগত গাড়ির চাপ বহুগুণ বেড়ে যাওয়ায় মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে প্রথমে ধীরগতি এবং পরে তা দীর্ঘ যানজটে রূপ নেয়।

ভোগান্তিতে পড়া যাত্রীদের অভিযোগ, ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকার পাশাপাশি থেমে থেমে বৃষ্টি এবং গণপরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কারণে এবারের ঈদযাত্রা আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। দীর্ঘ সময় সড়কে আটকে থাকায় অনেকেই খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে ভুগছেন।

চন্দ্রা এলাকায় আটকে থাকা এক বাসচালক জানান, সন্ধ্যার পর থেকেই গাড়ির চাকা যেন এক জায়গায় স্থির হয়ে আছে। যাত্রীরা বাসের ভেতরেই ক্লান্ত-বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছেন। কয়েকজন যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, স্বাভাবিক সময়ে ঢাকা থেকে টাঙ্গাইল যেতে যেখানে ২ থেকে ৩ ঘণ্টা সময় লাগে, সেখানে মঙ্গলবার রাতে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও তারা গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেননি।

হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দিনের বেলায় মির্জাপুর থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত যান চলাচল অনেকটা স্বাভাবিক থাকলেও রাত ৯টার পর কালিয়াকৈর-মির্জাপুর অংশে চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। এ ছাড়া এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতুর পূর্ব টোল প্লাজা পর্যন্তও রাতভর থেমে থেমে যান চলাচল করেছে।

সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে গাজীপুর হাইওয়ে পুলিশ সুপার রহমত উল্লাহ বলেন, “ঈদকে কেন্দ্র করে শেষ মুহূর্তে মহাসড়কে মানুষ ও যানবাহনের চাপ হঠাৎ করে অনেক বেড়ে গেছে। কোথাও কোথাও যানবাহন বিকল হওয়া এবং অতিরিক্ত চাপের কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তবে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করতে এবং যানজট নিরসনে হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত সদস্য রাতভর মাঠে থেকে কাজ করে যাচ্ছেন।”