
ভূমিকম্পের আঘাতে কেপে উঠেছে পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের ঝিলাম জেলা
৪.৮ মাত্রার ভূমিকম্পের আঘাতে কেপে উঠেছে পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের ঝিলাম জেলা। এতে বহু ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হওয়ার পাশাপাশি এক কিশোর নিহত এবং কমপক্ষে ১১ জন আহত হয়েছেন।
পাকিস্তান আবহাওয়া অধিদপ্তর (পিএমডি) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ৬ মিনিটে রিখটার স্কেলে ৪.৮ মাত্রার এই ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল ১২ কিলোমিটার এবং এর কেন্দ্রস্থল ছিল ঝিলামের ৫৮ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে ৩২.৫৯ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ এবং ৭৩.২৩ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, রাজধানী ইসলামাবাদ ছাড়াও লাহোর, গুজরানওয়ালা, ওকারা, শেখুপুরা, মান্দি বাহাউদ্দিনসহ পাঞ্জাব প্রদেশের একটি বড় অংশে এই ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে।
ঝিলামের ডেপুটি কমিশনার মীর রেজা ওজগেনের মতে, জেলার পিন্দ দাদান খান তহসিলের জালালপুর শরীফ এলাকায় সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ভূমিকম্পে প্রায় ১০টি বাড়ি গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।প্রবল ঝাকুনিতে একটি বসতবাড়ির অংশবিশেষ ধসে পড়ে। এর নিচে চাপা পড়েই ১৩ বছর বয়সি ওই কিশোরের মৃত্যু হয়।
তিনি আরও বলেন, পুলিশ, উদ্ধারকারী দল ও স্থানীয় প্রশাসন ঘটনাস্থলে উপস্থিত রয়েছে। এলাকাটিতে আরও তল্লাশি ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ চলছে।
দাদান খান পিন্ডের সহকারী কমিশনার আয়েশা শাফকাত বলেছেন, ১২ জন আহতকে জালালপুর শরিফের গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছিল এবং তাদের মধ্যে একাধিক আঘাতপ্রাপ্ত আটজনকে পরে ঝিলামের ডিএইচকিউ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
প্রসঙ্গত, পাকিস্তান তিনটি প্রধান টেকটোনিক প্লেটের ওপর অবস্থিত- আরব, ইউরো-এশীয় এবং ভারতীয়— যা দেশটিতে পাঁচটি ভূমিকম্প অঞ্চল তৈরি করে এবং একাধিক ফল্ট লাইন থাকায় টেকটোনিক নড়াচড়া ঘন ঘন ঘটে; ফলে এই অঞ্চলে প্রায়ই ভূমিকম্প অনুভুত হয়। সর্বশেষ গত ৪ মে ৫.২ মাত্রার একটি ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে ইসলামাবাদ ও রাওয়ালপিন্ডি।








































