শুক্রবার । মে ২৯, ২০২৬
ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক আন্তর্জাতিক ২৯ মে ২০২৬, ১২:৩০ পূর্বাহ্ন
শেয়ার

ইরানের নতুন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘আরাশ-এ কামাঙ্গির’ কতটা শক্তিশালী?


iran-missile

হরমুজ প্রণালীর কাছে একটি মার্কিন এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন ভূপাতিত করতে নতুন ধরনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করেছে বলে দাবি করেছে ইরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ‘আরাশ-এ কামাঙ্গির’ নামের এই প্রযুক্তি প্রথমবারের মতো যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ব্যবহার করা হয়েছে।

ইরানের দাবি অনুযায়ী, কেশম দ্বীপের কাছে ড্রোনটি গুলি করে নামানো হয়। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত স্বাধীনভাবে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটল, যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা আবারও বাড়ছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দর আব্বাসের কাছে একটি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে বলে খবর প্রকাশিত হয়। পরে ইরানের ইসলামিক রেভ্যুলুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করে, তারা পাল্টা হিসেবে একটি মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে ইরানের দাবি পুরোপুরি যাচাই না হলেও বিষয়টি একেবারে অবাস্তব নয়। কারণ গত কয়েক বছরে ইরান কম খরচে তৈরি করা যায় এমন মোবাইল ও স্থানীয় প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর জোর দিয়েছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান যুদ্ধের অর্থনৈতিক দিকটি বদলে দিতে চেয়েছে। কম খরচের প্রযুক্তি দিয়েই তারা উন্নত ড্রোন ও বিমানকে হুমকির মুখে ফেলতে সক্ষম হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ‘আরাশ-এ কামাঙ্গির’ আসলে এমন একটি মোবাইল ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, যা সহজে স্থান পরিবর্তন করতে পারে এবং প্রচলিত রাডার ছাড়াই লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করতে সক্ষম। এটি হয়তো তাপ শনাক্তকারী বা ইলেকট্রো-অপটিক্যাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে।

নিউইয়র্কভিত্তিক নিরাপত্তা বিশ্লেষক অ্যালেক্স আলমেইদা বলেন, এই ধরনের ব্যবস্থা সহজে ধ্বংস করা কঠিন। কারণ বড় রাডার বা স্থায়ী ঘাঁটির মতো এগুলো সহজে শনাক্ত করা যায় না।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ধীরগতির নজরদারি ড্রোন হওয়ায় এমকিউ-৯ রিপার তুলনামূলকভাবে বেশি ঝুঁকিতে থাকে। ফলে ছোট ও কম খরচের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও এমন ড্রোন ভূপাতিত করতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের বড় আকাশ প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্ক আগের হামলাগুলোতে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও দেশটি এখনো ছোট ও মোবাইলভিত্তিক প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ধরে রেখেছে। এসব ব্যবস্থা হয়তো বড় আকারের বিমান হামলা ঠেকাতে পারবে না, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলকে দূরপাল্লার ব্যয়বহুল অস্ত্র ব্যবহার করতে বাধ্য করতে পারে।

ইরানের সামরিক কৌশল মূলত ‘সহনশীলতা, টিকে থাকা ও দ্রুত স্থান পরিবর্তনের’ ওপর ভিত্তি করে তৈরি। প্রযুক্তিগতভাবে প্রতিপক্ষের সমকক্ষ না হলেও দীর্ঘমেয়াদে চাপ মোকাবিলায় তারা নিজেদের প্রস্তুত করেছে।

পশ্চিমা বিশ্লেষকরা প্রায়ই ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে পশ্চিমা মানদণ্ডে বিচার করেন। কিন্তু বাস্তবে অনেক শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে টিকে থাকার ক্ষেত্রে ইরান নিজেদের প্রত্যাশার চেয়েও ভালো করেছে।

বিশ্লেষকদের ধারণা, হরমুজ প্রণালী ঘিরে ইরানের এই প্রতিরক্ষা সক্ষমতা শুধু সামরিক দিক থেকেই নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই অঞ্চলে যেকোনো সংঘাত আন্তর্জাতিক তেলের বাজার ও গ্যাসের দামে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।