শুক্রবার । মে ২৯, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ২৯ মে ২০২৬, ৫:৫১ পূর্বাহ্ন
শেয়ার

লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় ৪ বাংলাদেশি গুরুতর আহত


lebanon

ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের দফায় দফায় বিমান ও ড্রোন হামলায় অন্তত ১৬ জন নিহত এবং ৫৮ জন আহত হয়েছেন। এই বর্বরোচিত হামলায় চারজন বাংলাদেশি নাগরিকও গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একজন নারী ও দুই শিশু রয়েছে।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৮ মে) দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিহ (নাভানিয়া) এলাকায় একটি আবাসিক ভবন লক্ষ্য করে এই বিধ্বংসী হামলা চালায় ইসরায়েল। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

বৈরুতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, আহত বাংলাদেশিদের মধ্যে দুজনের পরিচয় শনাক্ত করা গেছে। তাঁরা হলেন—ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মোমিন মিয়া এবং নরসিংদীর জয়েনা আক্তার। ভয়াবহ এই বিস্ফোরণের আঘাতে জয়েনা আক্তারের একটি পা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে বলে জানা গেছে। বাকিদের তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।

আহতদের তাৎক্ষণিকভাবে নাবাতিহ এলাকার রাগেব হার্ব হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য সাইদা শহরে স্থানান্তরের কথা রয়েছে। বাংলাদেশ দূতাবাস আহত প্রবাসীদের সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ ও বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

এদিকে লেবাননের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলের এই তীব্র হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১৬ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এনএনএ জানায়, নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের ছয়জন সদস্য রয়েছেন। তাঁরা ভোরের দিকে আদলুন মহাসড়ক দিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে পালানোর সময় ইসরায়েলি ড্রোন হামলার শিকার হন। উল্লেখ্য, এই আদলুন মহাসড়কটি সাইদা ও টাইর শহরের সংযোগ সড়ক হিসেবে পরিচিত।

বর্তমানে ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন আবাসিক এলাকা, সড়ক ও বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে অবিরাম ও ব্যাপক বোমাবর্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে। এমনকি লেবাননের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, নাবাতিহ এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় এক সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন।

উদ্ভূত পরিস্থিতির মধ্যে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় নতুন করে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার কঠোর নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। টাইর ও তার আশপাশের এলাকার বাসিন্দাদের অবিলম্বে জাহরানি নদীর উত্তরে সরে যেতে বলা হয়েছে, যা লেবানন-ইসরায়েল সীমান্ত থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ফলে ওই অঞ্চলে চরম মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।