
তেলবাহী জাহাজ। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা কমাতে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। দুই দেশ একটি নতুন খসড়া সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছেছে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে। প্রস্তাবিত এই চুক্তির আওতায় বর্তমান যুদ্ধবিরতি আরও ৬০ দিনের জন্য বাড়ানো হতে পারে। পাশাপাশি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
তবে এখনো চুক্তিটি চূড়ান্ত হয়নি। ওয়াশিংটন ও তেহরানের শীর্ষ পর্যায়ের অনুমোদনের পরই এটি কার্যকর হতে পারে বলে জানা গেছে।
যুদ্ধবিরতি আলোচনা ইতিবাচক দিকে এগোচ্ছে—এমন খবরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও প্রভাব পড়েছে। বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কিছুটা কমেছে বলে জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা।
শুক্রবার (২৯ মে) ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩৫ সেন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৯৩ দশমিক ৩৬ ডলারে। শতাংশের হিসাবে যা প্রায় ০ দশমিক ৩৭ শতাংশ হ্রাস।
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ৬৩ সেন্ট কমে ব্যারেলপ্রতি ৮৮ দশমিক ২৭ ডলারে নেমে এসেছে। এতে দাম কমেছে প্রায় ০ দশমিক ৭১ শতাংশ।
এছাড়া আগস্ট মাসের ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের ভবিষ্যৎ চুক্তির দামও কমেছে। এ ক্ষেত্রে প্রতি ব্যারেলে ৪৬ সেন্ট কমে নতুন দাম দাঁড়িয়েছে ৯২ দশমিক ২৪ ডলার।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমার সম্ভাবনা দেখা দেওয়ায় জ্বালানি সরবরাহে ঝুঁকি কমবে—এমন প্রত্যাশা থেকেই বাজারে দামের এই পতন ঘটেছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী বন্দর আব্বাসের একটি সামরিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলার খবর প্রকাশের পর বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা যায়। সেদিন ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৭ দশমিক ৮৩ ডলারে পৌঁছায়।
একই সময়ে মার্কিন অপরিশোধিত তেলের দামও প্রায় ৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯২ দশমিক ২২ ডলারে ওঠে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল।


































