শুক্রবার । মে ২৯, ২০২৬
ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক আন্তর্জাতিক ২৯ মে ২০২৬, ১:১৬ পূর্বাহ্ন
শেয়ার

গাজার ৭০ শতাংশ এলাকা দখলে নিতে সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন নেতানিয়াহু


israel army

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, তিনি গাজার ৭০ শতাংশ এলাকা দখলে নেওয়ার জন্য দেশটির সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) দখলকৃত পশ্চিম তীরের এক সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি জানান, ইসরায়েল ধাপে ধাপে গাজায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও বাড়াচ্ছে।

নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমরা এখন গাজা উপত্যকার ৬০ শতাংশ এলাকায় অবস্থান করছি। আগে ছিলাম ৫০ শতাংশে। এখন আমার নির্দেশ হলো ধাপে ধাপে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত এগিয়ে যাওয়া।’

এর আগে এপ্রিলের শেষ দিকে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাগুলোকে যে মানচিত্র দেখিয়েছিল, তাতে দেখা যায়, গাজার প্রায় ৬৪ শতাংশ এলাকা তখনই তাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, গাজার আরও বড় অংশ দখল করা হলে প্রায় ২০ লাখ ফিলিস্তিনি ক্রমশ ছোট হয়ে আসা এলাকায় ঠাঁই নিতে বাধ্য হবেন। এতে মানবিক সংকট আরও গভীর হতে পারে।

২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়। সেই চুক্তির আওতায় ইসরায়েলি বাহিনী ‘ইয়েলো লাইন’ নামে পরিচিত একটি সীমারেখায় সরে যায়, যার ফলে তারা গাজার প্রায় ৫৩ শতাংশ এলাকায় অবস্থান ধরে রাখে।

তবে মঙ্গলবার হামাস অভিযোগ করে, ইসরায়েল ওই সীমারেখা পরিবর্তন করছে। তাদের দাবি, এটি যুদ্ধবিরতি চুক্তির স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং গাজায় স্থায়ী সামরিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা।

চুক্তি অনুযায়ী উভয় পক্ষের যুদ্ধবিরতি মেনে চলার কথা থাকলেও বাস্তবে পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। এতে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে, গাজা স্থায়ীভাবে বিভক্ত হয়ে যেতে পারে।

চুক্তি বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা বুলগেরিয়ার কূটনীতিক নিকোলাই ম্লাদেনভ সম্প্রতি সতর্ক করে বলেন, অগ্রগতি না হলে ‘ইয়েলো লাইন’ একসময় স্থায়ী দেয়াল বা সীমান্তে পরিণত হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, গাজায় এখনো বেসামরিক মানুষ নিহত হচ্ছেন এবং পরিবারগুলো ইসরায়েলি বিমান হামলার আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।

যুদ্ধবিরতির পরও ইসরায়েল একাধিকবার গাজায় হামলা চালিয়েছে। ইসরায়েলের অভিযোগ, হামাস পুনরায় অস্ত্র সংগ্রহ ও সংগঠন পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর থেকে এসব হামলায় ৮৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

চলতি মাসে ইসরায়েল হামাসের সামরিক শাখার নেতা ইজ্জ আল-দীন আল-হাদ্দাদকে হত্যা করে। পরে তার উত্তরসূরিকেও আরেকটি হামলায় হত্যা করা হয়।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ সামাজিক মাধ্যমে বলেন, ‘৭ অক্টোবরের হামলার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক নেতাকে নির্মূল করার অঙ্গীকার আমরা করেছি, এবং তা বাস্তবায়ন করা হবে।’

অন্যদিকে হামাস এখনো নিরস্ত্র হতে রাজি হয়নি বলে জানিয়েছেন ম্লাদেনভ। যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনা অনুযায়ী, হামাস নিরস্ত্র হওয়ার পর এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বাহিনী গাজার কিছু অংশের দায়িত্ব নিলে ইসরায়েলি বাহিনীর ধীরে ধীরে সরে যাওয়ার কথা রয়েছে।

যদিও কয়েকটি দেশ আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বাহিনীতে অংশ নেওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছে, তবে এখনো তাদের মোতায়েনের নির্দিষ্ট সময়সূচি নেই। এদিকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর না হওয়ায় ইসরায়েল ধীরে ধীরে গাজার আরও এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিচ্ছে।