শনিবার । মে ৩০, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক রাজধানী ৩০ মে ২০২৬, ১১:২৫ অপরাহ্ন
শেয়ার

আদ-দ্বীন হাসপাতালে এবার সাংবাদিকদের ওপর হামলা


attack-on-journalist

সংবাদ কাভার করতে গেলে আদ-দ্বীন হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা কর্মী ও নিরাপত্তারক্ষীরা সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালায়। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর আদ-দ্বীন হাসপাতালে রহস্যজনকভাবে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর রেশ কাটতে না কাটতেই এবার গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের লেলিয়ে দেওয়া পরিচ্ছন্নতা কর্মী ও নিরাপত্তারক্ষীদের এই হামলায় বেশ কয়েকজন সাংবাদিক ও ক্যামেরাপার্সন গুরুতর আহত হয়েছেন।

শনিবার (৩০ মে) বিকালে হাসপাতালের ওপরতলায় একটি অবৈধ বেকারি কারখানার সন্ধান পাওয়ার পর সেখানে ছবি ও তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে সাংবাদিকদের ওপর দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে এই হামলা চালানো হয়। এর আগে ওই হাসপাতাল পরিদর্শনে এসে বহুতল ভবনের ওপর বেকারি কারখানার সন্ধান পাওয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল।

তিনি জানান, ওই বেকারি থেকে কোনো ধরনের ক্ষতিকারক গ্যাস নির্গত হয়েই শিশুদের আইসিইউতে এই মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে কিনা, তা সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আদ-দ্বীন হাসপাতালে অবৈধ বেকারির খবর পেয়ে দুপুরে সেখানে পরিদর্শনে আসেন খোদ স্বাস্থ্যমন্ত্রী। মন্ত্রীর আসার খবর পেয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মীরাও সেখানে ছুটে যান, কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সাংবাদিকদের ভেতরে ঢুকতে দেয়নি। পরিদর্শন শেষে বের হয়ে মন্ত্রী গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, হাসপাতালের ভেতরের ওই বেকারিটি সম্পূর্ণ অনিয়ম ও অবৈধ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে চলছিল।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, তারা ভবনের জমাটবদ্ধ পানি এবং কারখানা থেকে এমন কোনো ধরনের বিষাক্ত গ্যাস নির্গত হয়েছে কিনা, যা সদ্যজাত শিশুদের সহ্য ক্ষমতার বাইরে—তা খতিয়ে দেখছেন। কারণ, হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) এখনো এক ধরনের সন্দেহজনক গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। এই পুরো বিষয়টি আগামী দুই দিনের মধ্যে নিখুঁতভাবে নিরীক্ষা করে তৃতীয় দিনের মাথায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপাতাল চত্বর ত্যাগ করার পরপরই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে পুলিশ ও র‍্যাব সদস্যরা প্রবেশ করেন। ঠিক এই সময়েই সাংবাদিকরা ভবনের ওপরতলার ওই বেকারির ভেতরের ছবি তুলতে গেলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের পরিচ্ছন্নতা কর্মী ও নিরাপত্তারক্ষীদের সাংবাদিকদের ওপর লেলিয়ে দেয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাকারীদের হাতে এ সময় ধারালো দেশীয় অস্ত্র দেখা গেছে এবং তাদের আকস্মিক মারধরে বেশ কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী আহত হন। ঘটনার পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দৃশ্যপটে হাজির হন হাসপাতালটির সিনিয়র ম্যানেজার। তবে তিনি সাংবাদিকদের কোনো যৌক্তিক প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেননি এবং গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে চরম অপেশাদার আচরণ করেন।

উল্লেখ্য, গত বুধবার সকালে আদ-দ্বীন হাসপাতালের পোস্ট ডেলিভারি অপারেটিভ ওয়ার্ডে একসঙ্গে ছয় নবজাতকের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান ও হাসপাতালের চিকিৎসাগত অব্যবস্থাপনা তদন্তে উচ্চপর্যায়ের ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

তবে শোকস্তব্ধ ও চিকিৎসাধীন মারা যাওয়া শিশুদের মায়েদের বক্তব্য এখনো রেকর্ড করতে না পারায় তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময় আরও চার দিন পিছিয়ে আগামী ৩ জুন নির্ধারণ করা হয়েছে। সেইসঙ্গে ঘটনার গভীরতা বিবেচনায় এই তদন্ত কমিটিতে নতুন করে আরও তিনজন বিশেষজ্ঞ সদস্যকে যুক্ত করা হয়েছে।