
ছবি: সংগৃহীত
জ্যৈষ্ঠের তীব্র খরতাপে পুড়ছে সারা দেশ। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের ৪০টিরও বেশি জেলা বর্তমানে মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহের কবলে রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এই তাপপ্রবাহ আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে এবং জুন মাসে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি উঠতে পারে।
সোমবার (১ জুন) আবহাওয়া অধিদপ্তরের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে বলা হয়, চলতি জুন মাসে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি দিন ও রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকতে পারে। এ মাসে ২-৩টি মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাকে মৃদু তাপপ্রবাহ, ৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রিকে মাঝারি তাপপ্রবাহ এবং ৪০ ডিগ্রির বেশি হলে তীব্র তাপপ্রবাহ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, জুনের প্রথমার্ধে দেশের ওপর দিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু (বর্ষাকাল) বিস্তার লাভ করতে পারে। এ মাসে ৫-৭ দিন হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বজ্রঝড় এবং বঙ্গোপসাগরে ১-২টি লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যার মধ্যে একটি নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে।
এ সময় দেশের নদ-নদীগুলোর স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় থাকলেও বিচ্ছিন্ন ভারি বৃষ্টির কারণে উত্তর, উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কিছু নদীর পানি সাময়িকভাবে বাড়তে পারে।
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষজ্ঞ কমিটির পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, মে মাসে দেশের গড় বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের তুলনায় ৭.৪ শতাংশ বেশি হয়েছে। তবে চট্টগ্রাম, খুলনা ও বরিশাল বিভাগে বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের চেয়ে কম ছিল।
মে মাসে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড হয় চুয়াডাঙ্গায় এবং সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত ১৪৪ মিলিমিটার রেকর্ড হয় দিনাজপুরে।
সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী মঙ্গলবার ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি এবং চট্টগ্রাম ও সিলেটের কোথাও কোথাও মাঝারি ভারি বর্ষণ হতে পারে। তবে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে।
আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক জানান, চলমান তাপপ্রবাহ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। তবে বৃষ্টিপাত হলে সংশ্লিষ্ট এলাকায় তাপমাত্রা কিছুটা কমে আসবে।











































