রবিবার । জুন ১৪, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক জাতীয় ১৩ জুন ২০২৬, ৯:২৬ অপরাহ্ন
শেয়ার

দেশের মানুষের ভাগ্য বদলাতে চাই: প্রধানমন্ত্রী


tarekque-chakaria

ছবি: সংগৃহীত

নতুন বাজেট বাস্তবায়ন করে দেশের মানুষের ভাগ্য বদলাতে চান বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একদিনের সরকারি সফরে কক্সবাজারে গিয়ে দিনের বিভিন্ন কর্মসূচি শেষে চকরিয়ায় এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

শনিবার (১৩ জুন) সন্ধ্যায় চকরিয়া কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) চকরিয়া উপজেলা ও পৌরসভা শাখা এই জনসভার আয়োজন করে।

জনসভায় প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, “কথা একটাই, আমাদের কাজ হচ্ছে দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা।” এ সময় স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমরা সারা দেশের সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০০ বেডে উন্নীত করব, যাতে গ্রামের মানুষকে চিকিৎসার জন্য দূরে যেতে না হয়।” দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তিনি আরও বলেন, “আজকে নতুনভাবে বলতে চাই—করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ।”

বিরোধী দলের সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, সদ্য বাজেট ঘোষণার পর বাজারে জিনিসের দাম বাড়েনি। যারা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা করে তারা সকলেই বলেছেন, ঘোষিত বাজেট গণমুখী বাজেট। অথচ যারা ৭১ সাল থেকে ৮৬, ৯৬ ও ২০০৮ সালে দেশের জনগণকে বিভ্রান্ত করেছিল, আবার তারাই গণমুখী বাজেটের বিরুদ্ধে রাস্তায় প্রতিবাদ বিক্ষোভ করছে।

তিনি বলেন, এ দলটি জনগণের রাজনীতি করে না। এরা মিথ্যা টিকিট বিক্রি করে মানুষকে ঠকিয়ে ভোট নিয়ে ক্ষমতায় যেতে চায়। এখন কী আমরা ধরে নেব সিগারেট এবং মদের ট্যাক্স বাড়ানোয় বিরোধী দল ক্ষুব্ধ হয়েছে।

চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ এনামুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, কক্সবাজার জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামীম আরা স্বপ্না।

এর আগে সকালে ঢাকা থেকে আকাশপথে কক্সবাজারে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। কক্সবাজারে পৌঁছেই তিনি প্রথমে পিএমখালী ইউনিয়নে পাতিলী খাল পুনঃখনন কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন এবং পরে এক সুধী সমাবেশে অংশ নেন। সেখান থেকে তিনি ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক পরিদর্শন করেন এবং মালুমঘাট সংরক্ষিত বনে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

পরিদর্শন শেষে প্রধানমন্ত্রী পেকুয়া উপজেলায় গিয়ে জুলাই আন্দোলনের শহীদ ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত ও তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। পরবর্তীতে তিনি নবগঠিত পেকুয়া পৌরসভা এবং নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। চকরিয়ার এই জনসভা শেষ করে তিনি কক্সবাজারের লং বিচ হোটেলে আরেকটি সুধী সমাবেশে যোগ দেবেন। এরপর সব আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শেষে আজ রাতেই প্রধানমন্ত্রী আকাশপথে পুনরায় ঢাকায় ফিরবেন।